প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য কথা—: স্বাস্থ্য কথা
নিজের মানসিক শক্তি বাড়াতে চাইলে নিচের ৯টি কৌশল নিয়মিত অনুসরণ করুন:

১। নিজের বিশ্বাসগুলো মূল্যায়ন করুন: আপনার ভেতরের নেতিবাচক বিশ্বাসগুলো শনাক্ত করে সেগুলোর ব্যতিক্রম খুঁজে বের করুন এবং ইতিবাচকভাবে ভাবতে শিখুন।

২। মেডিটেশন করুন: নিয়মিত ধ্যান মনকে শান্ত রাখে, আত্মবিশ্বাস বাড়ায় ও অনুপ্রেরণা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

৩। শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন: গভীরভাবে শ্বাস নেওয়া ও ধীরে ধীরে ছাড়ার অভ্যাস মানসিক চাপ কমায় ও মনকে স্থির করে।

৪। ইতিবাচক উক্তি পড়ুন: অনুপ্রেরণামূলক উক্তি চিন্তাকে ইতিবাচক করে, সাফল্যের পথে এগিয়ে নেয়।

৫। নেতিবাচক চিন্তা দূর করুন: আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও সন্তুষ্টির চর্চা করুন- জীবনের ভালো দিকগুলোর দিকে মন দিন।

৬। সহ্যশক্তি অনুশীলন করুন: আবেগের নিয়ন্ত্রণ নিন, পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেকে সামলাতে শিখুন।

৭। দৈনন্দিন উন্নতি পর্যবেক্ষণ করুন: প্রতিদিন নিজের চিন্তা, আচরণ ও শেখা বিষয়গুলো মূল্যায়ন করুন।

৮। মানবিক চর্চা করুন: দয়া, ক্ষমাশীলতা ও উদারতা ধারণ করুন- এগুলো মনকে প্রশান্ত রাখে।

৯। আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন: নামাজ, দোয়া ও তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে মানসিক শান্তি ও শক্তি অর্জন করুন।  নিয়মিত এই অভ্যাসগুলো চর্চা করলে আপনার মানসিক দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস উভয়ই বৃদ্ধি পাবে!

কল্যাণচিন্তা করা।

…………….. মানুষের মন এমন এক ক্ষেত্র এখানে যে বীজ বপন করা হয়, সেই বীজই একদিন গাছ হয়ে ওঠে হোক তা কল্যাণের কিংবা অকল্যাণের। আসলে জন্ম থেকে কেউ খারাপ হয় না। কিন্তু উদাসীনতা, অবহেলা, স্বার্থপরতা, ক্রোধ, ঈর্ষা, প্রতিহিংসা এসব যদি ধীরে ধীরে মন দখল করে নেয়, তখন  সে অন্যায়ের পথে চলে যায়। আমরা যদি মনকে কল্যাণচিন্তায় ভরিয়ে রাখতে পারি অর্থাৎ সবসময় ইতিবাচক ভাবনায় থাকি, ভালো কাজের সঙ্গেই নিজেদের যুক্ত রাখি তাহলে অন্যায় বা অকল্যাণ কখনোই আমাদের দখল করতে পারবে না।  নিজেকে বারবার ভালো চিন্তার দিকে ফিরিয়ে আনা, সৎ পথে রাখাই হলো সবচেয়ে বড় শক্তি। আর এক্ষেত্রে চমৎকার সহায়ক হতে পারে এই অটোসাজেশনটি। বারবার চর্চা করে আপনার ব্রেনকে এই মেসেজের সাথে টিউনড করে ফেলুন। যে আমি অন্যায় বা অকল্যাণ থেকে বিরত থাকতে  কল্যাণচিন্তায় নিজেকে নিবেদিত রাখব। ধীরে ধীরে দেখবেন ভাবনা পরিষ্কার হচ্ছে, সিদ্ধান্ত দৃঢ় হচ্ছে, আর পথচলা অনেক সহজ হয়ে গেছে। মন যখন ভালো থাকে, জীবন তখন আপনিই শুদ্ধ পথে এগোতে থাকে।  “কল্যাণচিন্তায় নিবেদিত না হলে অন্যায় ও অকল্যাণ আমাকে গ্রাস করবে। অন্যায় ও অকল্যাণের থাবা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যে সবসময় কল্যাণচিন্তায় নিজেকে নিবেদিত রাখব।”

জীবনে সাফল্য তাদেরই হাতে ধরা—

…………….. জীবনে সাফল্য তাদেরই হাতে ধরা দেয়, যারা কাজ শুরু করতে জানে এবং কাজের পেছনে লেগে থাকতে পারে। শুধু স্বপ্ন দেখলেই বা পরিকল্পনা করলেই বিজয় আসে না; শুরু করতে হয় প্রথম পদক্ষেপ দিয়ে। কিন্তু শুরু করার পরেও পথ শেষ করা পর্যন্ত অধ্যবসায় ধরে রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অনেকেই মাঝপথে হাল ছেড়ে দেন আর সেখানেই ব্যর্থতা তাদের গ্রাস করে। কিন্তু আমাদের ভাবনা হতে হবে এমন যে  আমি যখন কাজ শুরু করি আর মন-প্রাণ দিয়ে সেই কাজে লেগে থাকি, তখন বাধা আমাকে আটকাতে পারে না। প্রতিটি ছোট প্রচেষ্টা, প্রতিটি ধৈর্যের মুহূর্ত আমাকে লক্ষ্যপানে এগিয়ে নেয়। আর শেষ পর্যন্ত বিজয় অনিবার্যভাবে আমারই হয়। কারণ বিজয় সবসময় তাদের হাতে ধরা দেয়, যারা শুরু করতে সাহসী এবং শেষ করতে ধৈর্যশীল। তাই আজকের অটোসাজেশন, “আমি কাজ শুরু করি। কাজের পেছনে লেগে থাকি। বিজয় আমারই।”

সত্যিকারের বন্ধু

…………….. মানুষ সামাজিক জীব। সে প্রতিনিয়ত সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ থাকে—পরিবারে, কর্মস্থলে কিংবা বৃহত্তর সমাজে। এই সম্পর্কের জালে কেউ আমাদের প্রকৃত বন্ধু হয়, আবার কেউ হয় পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ শত্রু। কিন্তু একে চেনার চোখ সবার থাকে না। অনেকে আবেগে বা অবিবেচনায় বন্ধু ও শত্রুর পার্থক্য করতেও ভুল করে বসে। ফলাফল হয় ভয়াবহ, যাকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ভেবে আস্থা রাখা হয়, সে-ই বিশ্বাসভঙ্গ করে কষ্ট দেয়। আবার প্রকৃত মঙ্গলকামী মানুষের প্রতি অবহেলা বা দূরত্ব তৈরি হয়। এই ভুলগুলো সাধারণত করে মূর্খ বা আবেগপ্রবণ মানুষ। কারণ তারা বাহ্যিক আচরণ বা মিষ্টি কথায় সহজেই বিভ্রান্ত হয়। এক্ষেত্রে বুদ্ধিমানরা যা করে তা হলো—তারা দেখেন, বোঝেন এবং পর্যবেক্ষণ করেন। শব্দের চেয়ে কাজ, প্রতিশ্রুতির চেয়ে আচার-আচরণকে গুরুত্ব দেন। তারা জানেন, সত্যিকারের বন্ধু সেই, যে সংকটে পাশে থাকে, গোপন রক্ষা করে, নিন্দা নয় বরং পেছনে থেকেও সঠিক পথে চলতে সহায়তা করে।

তাই মনে মনে শতবার চর্চা করুন আজকের অটোসাজেশন,

“আহাম্মক শত্রুকে বন্ধু ও

বন্ধুকে শত্রু বিবেচনা করে ভুল করে।

আমি বন্ধু ও শত্রু বিবেচনায় সবসময় বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করব।”

দিন দিন স্মরণশক্তি কমে যাচ্ছে। এটা কেন হচ্ছে এবং কিভাবে স্মরণশক্তি বাড়ানো যায়?

…………….. স্মরণশক্তি কমা যাওয়া একটি সাধারিত এবং বৃদ্ধির প্রক্রিয়া, যা বয়স, জীবনযাপন, পরিবর্তনশীল জীবনযাপন পদ্ধতি, ওভারল হেলথ এবং অন্যান্য কারণে ঘটতে পারে। কিছু সাধারিত কারণ হলো:

1. বয়স: বৃদ্ধি হলে স্মরণশক্তি কমে যায়। এটি সাধারিত প্রক্রিয়া এবং নিজেকে বৃদ্ধি করার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে।

2. লাইফস্টাইল: দিনচর্যা, খাবার এবং শখের চয়েসের মধ্যে অবৈধ পদার্থ বা ক্যাফিনের ব্যবহার এবং অপর্যাপ্ত ঘুম এই সব তত্ত্বে স্মরণশক্তির প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

3. অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ: মানসিক স্বাস্থ্য, চিন্তা, অবস্থা বা অন্যান্য কারণে স্মরণশক্তি প্রভাবিত হতে পারে।

## কিছু উপায়ে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করতে পারে:

1. প্রতিদিন ব্যায়াম: নিয়মিত ব্যায়াম করা মানসিক স্বাস্থ্য ও স্মরণশক্তির জন্য ভালো।

2. স্বাস্থ্যকর খাবার: পোষণপূর্ণ খাবার খাওয়া মানসিক স্বাস্থ্য এবং স্মরণশক্তির জন্য উপকারী হতে পারে।

3. শখের চয়েস বৃদ্ধি করুন: নতুন কিছু শেখা, গান শোনা, বই পড়া বা একটি ভাষা শেখা স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করতে পারে।

4. পর্যাপ্ত ঘুম: প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম নিতে হলে মানসিক স্বাস্থ্য এবং স্মরণশক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রস্তুতিগুলি সহায় করতে পারে তবে আপনি যদি মনে করেন যে আপনার স্মরণশক্তি সাধারিত থেকে বেশি কমে গিয়েছে এবং এটি আপনার দৈহিক বা মানসিক সমস্যার কারণে হতে পারে, তাদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য একজন চিকিৎসকে দেখাতে ভিত্তি করুন।

৩. প্রতিদিন সকালে ও রাতে তিন চা চামচ অর্গানিক নারিকেল তেল খান, ক্যান্সার সেরে যাবে।

চিনি পরিহারের পর নিচের দুটি থেরাপির যেকোনো একটি গ্রহণ গ্রহণ করুন। ক্যান্সার আপনাকে ঘায়েল করতে পারবে না। তবে অবহেলা বা উদাসীনতার কোনো অজুহাত নেই।

উল্লেখ্য, ক্যান্সার সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে ডা. গুপ্তপ্রসাদ গত পাঁচ বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এই তথ্যটি প্রচার করছেন।

সেই সঙ্গে তিনি সবাইকে অনুরোধ করেছেন এই তথ্যটি শেয়ার করে সবাইকে জানার সুযোগ করে দেয়ার জন্য।

তিনি বলেছেন, “আমি আমার কাজটি করেছি। এখন আপনি শেয়ার করে আপনার কাজটি করুন এবং আশেপাশের মানুষকে ক্যান্সার থেকে রক্ষা করুন।”

সূত্র :- রেড্ডি।

একটি সুন্দর গল্প- লিপিড প্রোফাইল কে সুন্দর ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে

…………….. আমাদের শরীর যদি একটা ছোট্ট শহর হয় তবে এই শহরের প্রধান সমাজবিরোধী  হচ্ছে কোলেষ্টেরল। এর সাথে কিছু সাঙ্গ পাঙ্গ আছে। তবে একেবারে ডানহাত  ট্রাইগ্লিসারাইড। এদের কাজ হচ্ছে রাস্তায় রাস্তায় মাস্তানি করে রাস্তা block করা , শহরকে ব্যতিব্যস্ত রাখা।  হৃৎপিন্ড হলো এই শহরের প্রাণকেন্দ্র। শহরের সব রাস্তাগুলো এসে মিশেছে প্রাণকেন্দ্রে। সমাজবিরোধীর  সংখ্যা বেশী হলে কি হয় আপনারা সবাই জানেন। এরা নিত্য নতুন হাঙ্গামা বাধিয়ে  শহরের প্রাণকেন্দ্রকে অচল করে দিতে চায়। আমাদের শরীর নামক শহরে কি পুলিশ নেই ? যারা মাস্তানদের ক্রসফায়ার করবে, তাদের ছত্রভঙ্গ করে জেলে‌ ভরবে ?হ্যাঁ, আছে। তার নাম H D L  এই ব্যক্তি পাড়ায় পাড়ায় মাস্তানী করা এসব মাস্তানদের রাস্তা থেকে তুলে এনে জেলে ভরে রাখে। জেল মানে  লিভার । লিভার এইগুলোকে বাইল সল্ট বানিয়ে শহরের পয়নিষ্কাশন লাইনের মাধ্যমে (পায়খানার সাথে) শহর থেকে বের করে দেয়। কি অদ্ভুত শাস্তি মাস্তানদের! আর একজন আছে L D L. তিনি‌ আবার ক্ষমতালোভী। তিনি ক্ষমতার জোরে  তাদের জেলখানা থেকে তুলে আবার রাস্তায় বসিয়ে দেন।মাস্তানদের মাতলামো তে পুরো শহরে জ্যাম লেগে যায়। H D L হায় হায় করে দৌড়ে আসে। কিন্তু সে L D L আর মাস্তানদের যৌথ শক্তির সাথে পেরে ওঠেনা।  পুলিশের (H D L)  সংখ্যা যত কমে মাস্তানরা ততই উল্লসিত হয়।  শহরের পরিবেশ হয়ে ওঠে অস্বাস্থ্যকর। এমন শহর কার ভালো লাগে বলুন? আপনি মাস্তানদের কমিয়ে পুলিশ বাড়াতে চান? তবে হাঁটুন। আপনার প্রতি কদমে পুলিশ পোস্টিং (H D L)  বাড়বে, যত পুলিশ বাড়বে , ততই Cholesterol (মাস্তান)  Triglyceride (মাস্তানের চামচে) , L D L কমবে।  আপনার শহর (শরীর) প্রানচাঞ্চল্য ফিরে পাবে। আপনার শহরের প্রানকেন্দ্র (হার্ট) মাস্তানদের অবরোধ (হার্ট ব্লক ) থেকে বাঁচবে। আর শহরের প্রানকেন্দ্র (হার্ট) সুস্থভাবে  বাঁচা মানে আপনিও সুস্থভাবে বাঁচবেন। তাই সময় বা সুযোগ পেলেই শুরু করুন |

তিশী বীজ নিয়ম করে খেলেই ডায়াবেটিস কমে

…………….. তিশী বীজ নিয়ম করে খেলেই ডায়াবেটিস কমে, গবেষণায় রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে চমকপ্রদ ফল মিলেছে

ডায়াবেটিস এমন একটি নীরব রোগ যা অনেকেই বুঝতে না পেরে বছর বছর শরীরের গভীরে ক্ষতি করে। রক্তে শর্করা বাড়তে থাকলে চোখ, কিডনি, হৃদপিণ্ড এবং নার্ভের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়ে। অনেক মানুষ ওষুধ খাচ্ছেন, ডায়েট মানছেন, তবুও সুগার কমছে না। এ অবস্থায় সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো হঠাৎ রক্তপাত, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এবং কিডনি নষ্ট হওয়া। তাই ডায়াবেটিস রোগীর প্রতি মুহূর্তই সতর্কতার।

কিন্তু চমক হলো, একটি ছোট্ট বীজ নিয়ে বিশ্বজুড়ে গবেষকরা অবাক হয়ে গেছেন। এই বীজটি খাওয়ার পর অনেক রোগীর রক্তে শর্করা এমনভাবে কমেছে যে চিকিৎসকরাও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে তিশী বীজের বিশেষ উপাদান রক্তে গ্লুকোজের ওঠানামা স্থির রাখতে সাহায্য করে। শুধু তা নয়, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমিয়ে শরীরকে ইনসুলিন আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে সহায়তা করে। কানাডার এক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে তিশী বীজ তিন সপ্তাহ খেলেই কিছু রোগীর ফাস্টিং সুগার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। এই ফলাফল বিজ্ঞানীদের নজর কাড়ে।

আরও এক গবেষণায় দেখা গেছে তিশী বীজে থাকা লিগন্যান ও ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সরাসরি শরীরের প্রদাহ কমায়। প্রদাহ কমলে ডায়াবেটিস দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। তিশী বীজের সলিউবল ফাইবার পেটে জেল তৈরি করে, যা খাবার হজম ধীর করে। ফলে খাবার খাওয়ার পর রক্তে শর্করার হঠাৎ উত্থান থেমে যায়। এ কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত মূল্যবান।

সমাধানটি তাই খুব সহজ। প্রতিদিনের রুটিনে সামান্য তিশী বীজ যোগ করলেই দেখা যায় বড় পরিবর্তন। তবে খাওয়ার নিয়ম ভুল হলে উল্টো সমস্যা বাড়তে পারে। তাই সঠিক নিয়ম জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সকালে নাশতার আধা ঘণ্টা আগে এক চামচ ভেজানো তিশী বীজ খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রয়োজন হলে বীজ হালকা গুঁড়ো করে উষ্ণ পানির সঙ্গে মিশিয়েও খাওয়া যায়। এতে হজম সহজ হয় এবং শরীর উপাদানগুলো দ্রুত শোষণ করতে পারে।

যাদের দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য রয়েছে তারা তিশী বীজ নিয়মিত খেলেই উপকার পাবেন। ফাইবার শরীরের ভিতরের টক্সিন বের করে পেট পরিষ্কার রাখে। ফলে সুগার নিয়ন্ত্রণ আরও সহজ হয়। হাই কোলেস্টেরল থাকা রোগীদের জন্য তিশী বীজ অত্যন্ত কার্যকর। গবেষণায় দেখা গেছে তিশী বীজ খেলে খারাপ কোলেস্টেরল কমে এবং ভালো কোলেস্টেরল বাড়ে। এতে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়।

ডায়াবেটিস রোগীদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো শক্তি কমে যাওয়া এবং প্রতিদিন শরীর দুর্বল হয়ে পড়া। তিশী বীজের প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি শরীরকে শক্তি যোগায় এবং সারাদিন এনার্জি ধরে রাখে। এতে ক্ষুধা কম লাগে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। যাদের ওজন দ্রুত বাড়ছে তারা তিশী বীজ নিয়মিত খেলে তা কমতে শুরু করে। গবেষণায় দেখা গেছে ওজন কমলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ আরও দ্রুত হয়।

এখন প্রশ্ন হলো তিশী বীজ কতদিন খেতে হবে। গবেষকরা বলছেন অন্তত ছয় সপ্তাহ নিয়মিত খেলে রক্তের শর্করায় স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যায়। তবে কোনো সমস্যা না থাকলে দীর্ঘদিন খাওয়া নিরাপদ। গর্ভবতী নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে পরিমাণ কমিয়ে খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত খেলে গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা হতে পারে, তাই পরিমাণ অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত রাখা জরুরি।

সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিততা। তিশী বীজ একদিন খেলেই ফল পাওয়া যাবে না। কিন্তু প্রতিদিন সঠিক মাত্রায় খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসে। শরীরের প্রদাহ কমে যায়, কোলেস্টেরল স্বাভাবিক হয় এবং হজম শক্তি বাড়ে। অনেকেই কয়েক সপ্তাহেই রক্তে শর্করার পরীক্ষায় চমকপ্রদ পরিবর্তন দেখেছেন।

তিশী বীজ যেন ছোট এক ওষুধের ভান্ডার। যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারলে এটি ডায়াবেটিস রোগীর জীবনে আশার আলো হয়ে উঠতে পারে। নিয়ম মেনে খেলে এর উপকার সবাইই পেতে পারেন|

কালোজিরা যেসব রোগের মহৌষধ

…………….. সবার রান্নাঘরে থাকা উপাদানের মধ্যে একটি হলো কালোজিরা। বিভিন্ন ধরনের রান্নায় কম বেশি এর ব্যবহার হয়ে থাকে। এই কালোজিরা বিভিন্ন রোগেরই মহাঔষধ। বিশ্বজুড়ে প্রাচীনকাল থেকে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

নিয়মিত কালোজিরা খেলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, একজিমা, এলার্জি ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে থাকে। কালোজিরায় ভিটামিন, স্ফটিকল নাইজেলোন, অ্যামিনো অ্যাসিড, স্যাপোনিন, ক্রুড ফাইবার, প্রোটিন, ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো লিনোলেনিক, ওলিক অ্যাসিড, উদ্বায়ী তেল, আয়রন, সোডিয়াম, পটাসিয়াম ও ক্যালসিয়াম রয়েছে। জেনে নিন কালোজিরার কিছু উপকারিতা:

১. ডায়াবেটিস সবচেয়ে বিপজ্জনক রোগ হিসেবে পরিণত হয়েছে। কালোজিরার তেল ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখতে সহায়তা করে। প্রতিদিন সকালে এক কাপ চায়ের সঙ্গে আধা চা চামচ তেল মিশিয়ে পান করুন।

২. ডায়েটের জন্য কালোজিরা দারুণ কাজ করে। রুটি ও তরকারিতে ব্যবহার করতে পারেন। অনেকেই মধু ও পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেয়ে থাকেন। কালোজিরা ওটমিল ও টক দইয়ের সঙ্গে যুক্ত করে খেলে বেশ উপকার পাবেন।

৩. লেবুর রস ও কালোজিরা তেল একসঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ত্বকের অনেক সমস্যার সমাধান পেতে পারেন। লেবুর রস ও কালোজিরার তেল মিশিয়ে দিনে দু’বার মুখে লাগান। ত্বকে ব্রণ ও দাগ অদৃশ্য হয়ে যাবে।

৪. কালোজিরা তেল মাথাব্যথার জন্য একটি পুরানো ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে বলা হয়। এটি মাথার ত্বকের ম্যাসাজ করুন।

৫. সরিষার তেলের সঙ্গে কালোজিরা তেল গরম করে হাঁটু বা অন্যান্য জয়েন্টগুলোতে ম্যাসাজ করতে পারেন। এটি জয়েন্টের ব্যথা থেকেও মুক্তি পেতে সহায়তা করবে।

৬. কালোজিরায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায়, প্রদাহ, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হ্রাস করার ক্ষমতাসহ লিভারকে সুরক্ষিত করতে সহায়তা করে। কালোজিরা রাসায়নিকের বিষাক্ততা কমাতে পারে। লিভার ও কিডনি ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।

৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে কালোজিরা। নিয়মিত কালোজিরা খেলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সতেজ থাকে। এতে করে যে কোনও জীবানুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেহকে প্রস্তুত করে তোলে এবং সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যের উন্নতি করে।

৮. সর্দি-কাশিতে আরাম পেতে, এক চা চামচ কালোজিরার তেলের সঙ্গে ১ চা চামচ মধু বা এক কাপ লাল চায়ের সঙ্গে আধ চা চামচ কালোজিরের তেল মিশিয়ে দিনে তিনবার খান। পাতলা পরিষ্কার কাপড়ে কালিজিরা বেঁধে শুকালে, শ্লেষ্মা তরল হয়। পাশাপাশি, এক চা-চামচ কালোজিরার সঙ্গে তিন চা-চামচ মধু ও দুই চা-চামচ তুলসি পাতার রস মিশিয়ে খেলে জ্বর, ব্যথা, সর্দি-কাশি কমে। বুকে কফ বসে গেলে কালিজিরে বেটে, মোটা করে প্রলেপ দিন একই সাথে।

৯. যারা হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভুগে থাকেন তাদের জন্য কালোজিরা অনেক বেশি উপকারী। প্রতিদিন কালোজিরার ভর্তা রাখুন খাদ্য তালিকায়। কালোজিরা হাঁপানি বা শ্বাস কষ্টজনিত সমস্যা দূর করে।

১০. নিয়মিত কালোজিরা খেলে দেহে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। এতে করে মস্তিস্কে রক্ত সঞ্চালনের বৃদ্ধি ঘটে; যা আমাদের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।১১. নিয়মিত কালোজিরা খাওয়ালে দ্রুত শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি ঘটে। কালোজিরা শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থতা এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও অনেক কাজ করে।

১২. যেসব মায়েদের বুকে পর্যাপ্ত দুধ নেই, তাদের মহৌষধ কালোজিরা। প্রসূতি মায়েরা প্রতি রাতে শোয়ার আগে ৫-১০ গ্রাম কালোজিরা মিহি করে দুধের সাথে খেলে মাত্র ১০-১৫ দিনে দুধের প্রবাহ বেড়ে যাবে। এছাড়া এ সমস্যা সমাধানে কালোজিরা ভর্তা করে ভাতের সাথে খেলেও ভাল। এছাড়া ১ চা-চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধুসহ দিন ৩বার করে নিয়মিত খেলেও শতভাগ উপকার পাওয়া যায়।

এছাড়াও নিয়মিত কালোজিরা সেবনে চুলের গোড়ায় পুষ্টি ঠিকমতো পায়, ফলে চুলের বৃদ্ধি ভালো হয় এবং চুল পড়া বন্ধ হয়। অনেকেরই চুল পড়া, দুর্বল চুল, শুষ্ক চুল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা থাকে। এক্ষেত্রে সপ্তাহে কয়েকবার কালোজিরার তেলের ব্যবহার চুলের সমস্যাকে দূর করতে পারে। এটি নিয়মিত রান্নায় ব্যবহার করতে পারেন। আরও ভাল প্রভাবের জন্য পানি দিয়ে সেদ্ধ করে পান করুন। পারলে প্রতিদিন সকালে কাঁচা চিবিয়ে খান।

হজম ও শক্তি বাড়াতে কালোজিরা vs আজোয়ান দানা–

…………….. হজম ও শক্তি বাড়াতে কালোজিরা ভালো নাকি আজোয়ান দানা, তুলনামূলক বিশ্লেষণ জানুন

অনেক মানুষই হজমের সমস্যা আর সারাদিনের ক্লান্তিকে স্বাভাবিক ধরে নেন। পেট ভার লাগে, গ্যাস জমে, কাজের মাঝখানে শক্তি পড়ে যায়। ভয়টা এখানেই যে এই উপসর্গগুলো দীর্ঘদিন চললে শরীরের ভেতরের ভারসাম্য নষ্ট হতে থাকে। তখনই প্রশ্ন আসে কালোজিরা না আজোয়ান দানা, কোনটি আসলে বেশি কাজে দেয়। এই দ্বিধা খুব সাধারণ, কারণ দুটিই পরিচিত প্রাকৃতিক উপাদান।চমক হলো গবেষণা বলছে কালোজিরা ও আজোয়ান দানা দুটোই কাজ করে, কিন্তু কাজের জায়গা এক নয়। কালোজিরা শরীরের ভেতরের প্রদাহ কমাতে ও সামগ্রিক শক্তি ব্যবস্থাকে সাপোর্ট দিতে পরিচিত। অন্যদিকে আজোয়ান দানা দ্রুত হজমে আরাম দিতে বেশি কার্যকর। তাই একই সমস্যায় দুজন মানুষ ভিন্ন ফল পান।গবেষণায় দেখা গেছে কালোজিরায় থাকা thymoquinone কোষের অক্সিডেটিভ চাপ কমাতে সাহায্য করে। এই চাপ কমলে শরীর শক্তি ধরে রাখতে পারে। যাদের দীর্ঘদিনের দুর্বলতা, মানসিক চাপ বা সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়ার সমস্যা আছে তারা কালোজিরা খেলে ধীরে ধীরে স্থির শক্তি অনুভব করেন। এটি হঠাৎ উত্তেজনা নয়, বরং ভিতর থেকে কাজ করার শক্তি।অন্যদিকে আজোয়ান দানায় থাকা thymol হজম এনজাইম সক্রিয় করতে সাহায্য করে। গবেষকরা বলছেন এটি পাকস্থলীর গ্যাস ও খিঁচুনি কমাতে পারে। ভারী খাবারের পর যারা দ্রুত অস্বস্তিতে পড়েন তারা আজোয়ান দানা খেলে তুলনামূলক দ্রুত আরাম পান। এজন্যই পেটের সমস্যায় আজোয়ানকে বেশি দেখা যায়।

হজম ঠিক না থাকলে শক্তি বাড়ে না, এই সত্যটা গবেষণায় স্পষ্ট। আজোয়ান দানা হজম দ্রুত স্বাভাবিক করে বলে খাবার থেকে শক্তি বের করা সহজ হয়। তাই কিছু মানুষ আজোয়ান খেলে সাথে সাথে হালকা ও চাঙ্গা অনুভব করেন। কিন্তু এই শক্তি সাধারণত স্বল্পমেয়াদি। কালোজিরার ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন। এটি হজমে সহায়তা করলেও মূল কাজ করে শরীরের ভেতরের সিস্টেমে। গবেষণা বলছে নিয়মিত কালোজিরা ব্যবহারে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও কোষের শক্তি ব্যবস্থায় সহায়তা পাওয়া যায়। এজন্য যারা দীর্ঘদিনের দুর্বলতায় ভোগেন তারা কালোজিরাকে বেশি কার্যকর মনে করেন।ভয় এখানেই যে অনেকেই দুটো একসাথে বা অতিরিক্ত খাওয়া শুরু করেন। এতে পেটে জ্বালা, অস্বস্তি বা রক্তচাপের পরিবর্তন হতে পারে। যাদের পেট সংবেদনশীল বা নির্দিষ্ট রোগ আছে তাদের ক্ষেত্রে ভুল ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ। তাই কোনটি কখন ব্যবহার করবেন তা জানা জরুরি।সমাধান হলো নিজের সমস্যার ধরন বোঝা। যদি মূল সমস্যা গ্যাস, পেট ফাঁপা বা খাবারের পর অস্বস্তি হয় তাহলে আজোয়ান দানা উপকারী হতে পারে। যদি সমস্যা হয় সারাদিন শক্তি না থাকা, দুর্বলতা বা সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়া, তাহলে কালোজিরা ধীরে ভালো সাড়া দিতে পারে। গবেষণা এটিকেই ব্যক্তিভিত্তিক উপযোগিতা বলে। অনেক বিশেষজ্ঞ বলেন দুটো একসাথে না খেয়ে আলাদা সময়ে ও সীমিত পরিমাণে ব্যবহার করাই নিরাপদ। নিয়মিত ব্যবহারের আগে শরীরের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অর্থাৎ কালোজিরা ও আজোয়ান দানার মধ্যে ভালো বা খারাপের লড়াই নেই। হজমের দ্রুত আরামে আজোয়ান দানা এগিয়ে, আর শক্তি ও সামগ্রিক সাপোর্টে কালোজিরা ধীরে কাজ করে। সঠিক প্রয়োগ জানলে দুটোই শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। সচেতন সিদ্ধান্তই এখানে সবচেয়ে বড় শক্তি।

প্রতিদিন অল্প কালোজিরা খাওয়ার অভ্যাস কেন হার্ট ও ব্লাড সুগারের জন্য উপকারী

…………….. প্রতিদিন অল্প কালোজিরা খাওয়ার অভ্যাস কেন হার্ট ও ব্লাড সুগারের জন্য উপকারী

আজকাল খুব অল্প বয়সেই হার্টের সমস্যা ও ব্লাড সুগার বেড়ে যাওয়ার ঘটনা ভয়ংকরভাবে বাড়ছে। অনেকেই বাইরে থেকে দেখতে সুস্থ থাকলেও ভেতরে ভেতরে রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, হার্ট দুর্বল হয়ে পড়ছে, আর ব্লাড সুগার ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, শুরুর দিকে এসব সমস্যার তেমন কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। হঠাৎ একদিন রিপোর্টে ধরা পড়ে সুগার বেশি, প্রেসার বেশি বা হার্টে সমস্যা শুরু হয়ে গেছে।

এই জায়গায় মানুষ সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে পড়ে যায় এবং সারাজীবনের জন্য ওষুধের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। অথচ গবেষণা বলছে, কিছু সহজ প্রাকৃতিক অভ্যাস নিয়মিত বজায় রাখতে পারলে এই সমস্যাগুলোর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো প্রতিদিন অল্প পরিমাণ কালোজিরা খাওয়ার অভ্যাস।

কালোজিরাকে আয়ুর্বেদে বহুদিন ধরেই শক্তিশালী ভেষজ হিসেবে ধরা হয়। আধুনিক বিজ্ঞানও এখন এর কার্যকারিতা নিয়ে একের পর এক গবেষণা প্রকাশ করছে। কালোজিরায় থাকা থাইমোকুইনন নামের সক্রিয় উপাদান শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিনের প্রদাহই হার্টের রোগ ও ডায়াবেটিসের অন্যতম মূল কারণ।

হার্টের ক্ষেত্রে কালোজিরা রক্তনালিকে নমনীয় রাখতে সাহায্য করে। এতে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা কমে এবং রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে। নিয়মিত অল্প কালোজিরা খেলে কোলেস্টেরলের ক্ষতিকর অংশ এলডিএল ধীরে ধীরে কমতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভালো কোলেস্টেরল এইচডিএল বাড়তেও এটি সহায়ক ভূমিকা রাখে।

ব্লাড সুগারের ক্ষেত্রেও কালোজিরার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, কালোজিরা শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে। এর ফলে শরীর নিজেই রক্তের শর্করা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। যারা প্রি-ডায়াবেটিস অবস্থায় আছেন, তাদের ক্ষেত্রে নিয়মিত কালোজিরা খাওয়ার অভ্যাস ভবিষ্যতের বড় ঝুঁকি কমাতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কালোজিরা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। এই অক্সিডেটিভ স্ট্রেসই হার্ট ও প্যানক্রিয়াসের কোষের ক্ষতির জন্য দায়ী। নিয়মিত কালোজিরা খেলে কোষগুলো সুরক্ষিত থাকে এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দীর্ঘদিন সুস্থভাবে কাজ করতে পারে।

সমাধানটি খুব সহজ। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে আধা চা চামচ বা সর্বোচ্চ এক চা চামচ কালোজিরা ভালো করে চিবিয়ে খেতে পারেন। অনেকে কালোজিরা হালকা গুঁড়ো করে কুসুম গরম পানির সঙ্গে খেয়েও উপকার পান। নিয়মিত এই অভ্যাস অন্তত দুই থেকে তিন মাস বজায় রাখলে শরীরের ভেতরে পরিবর্তন ধীরে ধীরে টের পাওয়া যায়।

কালোজিরা কোনো ম্যাজিক নয়, তবে এটি শরীরকে নিজে থেকে সুস্থ থাকার শক্তি দেয়। হার্টকে সুরক্ষিত রাখা এবং ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ছোট কিন্তু কার্যকর এই অভ্যাসটি আপনাকে দীর্ঘমেয়াদে বড় উপকার দিতে পারে। আপনি যদি প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ থাকতে চান, আজ থেকেই অল্প কালোজিরা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।।

যেসব উপকার করে লেবু-পানি

…………….. লেবু-পানিপানকরায়যতউপকাররয়েছেতাআরহয়তঅন্যকোনোপানীয়তেপাওয়াযাবেনা।

এই গরমে সুস্থ থাকতে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও র্দ্র রাখতে লেবু পানি পান করা উপকারী। লেবুর সুগন্ধ যেমন মন ভালো করে দেয় তেমনি এর পুষ্টিগুণ দেহকে সজীব করে তোলে।

স্ফিতভাব কমায়

সাধারণের তুলনায় পেট বা কোমড়ের মাপ বৃদ্ধি পেলে লেবুর পানি তা কমাতে সহায়তা করে।

নিউ ইয়র্কের স্বাস্থ্যকর খাবার-বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘সিট্রিশন’য়ের পুষ্টি পরামর্শদাতা জোডি গ্রিবেল বলেন ইটদিস ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “লেবু-পানি ফোলাভাব কমায় কারণ এটি একটি মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে। আর দেহে জমে থাকা বাড়তি তরল অপসারণ করে।”

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

নিয়মিত লেবুর পানি পান দুর্বলতা কমায় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

সোভেরেন ল্যাবরেটোরিজ ডটকম’য়ের পুষ্টিবিদ অ্যালিসিয়া গ্যালভিন একই প্রতিবেদনে বলেন, “একটি লেবুতে প্রায় ২০ মি.লি. গ্রাম ভিটামিন সি থাকে, যা দৈনিক ভিটামিন সি’র চাহিদার ২০ শতাংশ।”

ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।

কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমায়

কিডনিতে পাথর হওয়া বেশ যন্ত্রনাদায়ক।

ইউরোপীয় ইউরোলজি জার্নালে প্রকাশিত ২০১২ সালের গবেষণা অনুসারে, আনুমানিক ৮.৮% প্রাপ্তবয়স্করা তাদের জীবদ্দশায় কিডনি পাথরের সম্মুখীন হবে।

“কিডনিতে নির্দিষ্ট ধরনের পাথর যেমন – ‘অক্সালেট কিডনি স্টোন’ লেবুর পানিতে থাকা সিট্রেইট পাথর ভেঙে এবং দ্রবীভূত করতে সাহায্য করে,” জানান গ্যালভিন।

হজমে সহায়তা করে

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্যালেন্স ওয়ান সাপ্লিমেন্টস’য়ের পুষ্টিবিদ ট্রিস্টা বেস্ট বলেন, “প্রতিদিন সকালে কুসুম গরম লেবুর পানি পান রেচক হিসেবে কাজ করে।”

ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে

ত্বক ভালো রাখতে প্রসাধনীর পেছনে টাকা খরচ না করে বরং নিয়মিত লেবুর পানি পান করলে পাওয়া যাবে সুস্থ ও উজ্জ্বল ত্বক।

ওয়াশিংটনের বিশুদ্ধ পানি তৈরির প্রতিষ্ঠান ‘এসেনশিয়া ওয়াটার’য়ের ডায়েটিশিয়ান জেসিকা বিপেন বলেন, “ত্বক ভালো রাখতে আর্দ্রতা রক্ষার বিকল্প নেই। ক্রিম বা সেরাম যাই ত্বকে ব্যবহার করা হোক না কেন, ভেতর থেকে আর্দ্র না হলে কাংঙ্ক্ষিত ত্বক পাওয়া সম্ভব নয়। এটা ত্বকের বলিরেখা ও বয়সের ছাপ কমাতে সহায়তা করে।“

তিনি প্রতিদিন কমপক্ষে নিজ ওজনের অর্ধেক আউন্স পরিমাণ পানি পানের পরামর্শ দেন।

‘নিউট্রিয়েন্টস জার্নাল’য়ে প্রকাশিত ২০১৭ সালের পর্যালোচনা অনুসারে, লেবুতে পাওয়া ভিটামিন সি কোলাজেন সংশ্লেষণকেও উন্নত করতে পারে, যা ত্বককে তরুণ এবং স্বাস্থ্যকর দেখাতে সহায়তা করে।

ওজন কমাতে পারে

নিয়মিত লেবু পানি পান ওজন কমানোর যাত্রা কিছুটা সহজ করে দিতে পারে। বিপেনের মতে, “খাবারের আগে পানি পান পেট ভরা রাখে ফলে তুলনামূলক কম খাবার খাওয়া হয়। খাবারের আগে এবং খাবারের মাঝে লেবু পানি পান পেট ভরা ভাব আনে এবং ক্যালরি কম গ্রহণে সহায়তা করে।”

থাইরয়েড কী?

…………….. থাইরয়েড হলো গলার সামনের দিকে অবস্থিত একটি প্রজাপতির মতো দেখতে হরমোন উৎপাদনকারী গ্রন্থি। এটি শরীরের বিপাকক্রিয়া, ওজন, তাপমাত্রা, হৃদস্পন্দন, ঘুম ও মনোভাবের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখে।

থাইরয়েডের প্রধান হরমোন:

▪️T3 (Triiodothyronine)

▪️T4 (Thyroxine)

এই হরমোন দুটি শরীরকে সচল রাখে—অর্থাৎ কতটা শক্তি তৈরি হবে, কতটা দ্রুত শরীর কাজ করবে, তা নির্ধারণ করে। থাইরয়েডের দুই প্রধান সমস্যা:

১. হাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism) যখন থাইরয়েড কম হরমোন তৈরি করে লক্ষণ:

  • ক্লান্তিভাব
  • ওজন বেড়ে যাওয়া
  • ঠাণ্ডা লাগা
  • চুল পড়া ও ত্বক শুষ্ক হওয়া
  • মনোযোগে ঘাটতি ও বিষণ্নতা
  • মূল কারণ:
  • হ্যাশিমোটো ডিজিজ
  • আয়োডিনের ঘাটতি
  • থাইরয়েডের আংশিক অপসারণ

২. হাইপারথাইরয়েডিজম (Hyperthyroidism)

যখন থাইরয়েড অতিরিক্ত হরমোন তৈরি করে

লক্ষণ:

  • ঘাম হওয়া ও গরম লাগা
  • দ্রুত হৃদস্পন্দন
  • ওজন কমে যাওয়া
  • নার্ভাসনেস বা উদ্বিগ্নতা
  • ঘুমের সমস্যা
  • মূল কারণ:
  • গ্রেভস ডিজিজ
  • থাইরয়েড নডিউল
  • অতিরিক্ত আয়োডিন
  • থাইরয়েড সমস্যা নির্ণয়ের উপায়:
  • TSH, T3 ও T4 রক্ত পরীক্ষা
  • থাইরয়েড স্ক্যান ও আলট্রাসোনোগ্রাফি
  • অ্যান্টিবডি টেস্ট (Autoimmune সমস্যা শনাক্তে)

চিকিৎসা:

▪️হাইপোথাইরয়েডিজমে: হরমোন রিপ্লেসমেন্ট ওষুধ (যেমন লেভোথাইরক্সিন)

▪️হাইপারথাইরয়েডিজমে: অ্যান্টিথাইরয়েড ওষুধ, রেডিওআইডিন থেরাপি বা অপারেশন

যা মনে রাখা জরুরি:

১. থাইরয়েড সমস্যা থাকলে আজীবন নজরদারি দরকার।

২.নিয়মিত রক্তপরীক্ষা করে চিকিৎসকের পরামর্শে চলা উচিত।

৩.নিজের মতো করে ওষুধ শুরু বা বন্ধ করা বিপজ্জনক হতে পারে।

৪.স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে।

৫.একটি সুস্থ জীবন শুরু হয় সঠিক জ্ঞান ও সচেতনতায়। থাইরয়েডকে অবহেলা নয়—জেনে রাখুন, যত্ন নিন!

মাত্র দুটি কাজ করলেই ক্যান্সার উধাও!

…………….. ওশ স্টেট মেডিকেল ইউনিভার্সিটি, মস্কো, রাশিয়ার ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. গুপ্তপ্রসাদ রেড্ডি (বি ভি) বলেছেন, ক্যান্সার কোনো মরণব্যাধি নয়, কিন্তু মানুষ এই রোগে মারা যায় শুধুমাত্র উদাসীনতার কারণে।

তার মতে, মাত্র দুটি উপায় vঅনুসরণ করলেই উধাও হবে ক্যান্সার। উপায়গুলো হচ্ছে:-

১. প্রথমেই সব ধরনের সুগার বা চিনি খাওয়া ছেড়ে দিন। কেননা, শরীরে চিনি না পেলে ক্যান্সার সেলগুলো এমনিতেই বা প্রাকৃতিকভাবেই বিনাশ হয়ে যাবে।

২. এরপর এক গ্লাস গরম পানিতে একটি লেবু চিপে মিশিয়ে নিন। টানা তিন মাস সকালে খাবারের আগে খালি পেটে এই লেবু মিশ্রিত গরম পানি পান করুন। উধাও হয়ে যাবে ক্যান্সার।

মেরিল্যান্ড কলেজ অব মেডিসিন- এর একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, কেমোথেরাপির চেয়ে এটি হাজার গুণ ভাল।

৩. প্রতিদিন সকালে ও রাতে তিন চা চামচ অর্গানিক নারিকেল তেল খান, ক্যান্সার সেরে যাবে।

চিনি পরিহারের পর নিচের দুটি থেরাপির যেকোনো একটি গ্রহণ গ্রহণ করুন। ক্যান্সার আপনাকে ঘায়েল করতে পারবে না। তবে অবহেলা বা উদাসীনতার কোনো অজুহাত নেই।

উল্লেখ্য, ক্যান্সার সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে ডা. গুপ্তপ্রসাদ গত পাঁচ বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এই তথ্যটি প্রচার করছেন।

সেই সঙ্গে তিনি সবাইকে অনুরোধ করেছেন এই তথ্যটি শেয়ার করে সবাইকে জানার সুযোগ করে দেয়ার জন্য।

তিনি বলেছেন, “আমি আমার কাজটি করেছি। এখন আপনি শেয়ার করে আপনার কাজটি করুন এবং আশেপাশের মানুষকে ক্যান্সার থেকে রক্ষা করুন।”

সূত্র :- রেড্ডি।

কিডনি ও লিভার ভালো রাখার উপায় কী?

…………….. আমরা সবাই জানি কিডনি ও লিভার শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সুস্থ থাকতে এগুলোর খেয়াল রাখতেই হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলোর খারাপ হওয়ার কারণ হয় কিছু বদ অভ্যাস।

লিভার:-

জেনে নিন লিভার সুস্থ রাখার সহজ কিছু নিয়ম।

লো ফ্যাট ফুডেনা’- ফ্যাটি লিভারের সমস্যা এড়াতে অতিরিক্ত মদ্যপান, তেল-মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত্ ঠিকই, তবে লো ফ্যাট ফুড হইতে সাবধান। সুপারমার্কেটে গিয়ে লো ফ্যাট বা ৯৯ শতাংশ লোয়ার ইন ফ্যাট লেখা ফুড কেনা অবিলম্বে ত্যাগ করুন। এই সব খাবার থেকে ফ্যাট বাদ দেওয়া হয় ঠিকই, কিন্তু স্বাদ ধরে রাখতে যোগ করা হয় প্রচুর পরিমাণ চিনি। এতে লিভারের সমস্যা আরও বেড়ে যায়।

স্ট্রেস থাকলে খাবেন না– বোর হলে, এনার্জি কম লাগলে কী করি আমরা? অনেকেই এই সময় খাবার খেয়ে মুড ঠিক করতে চান। চিকিত্সকরা জানাচ্ছেন লিভার সুস্থ রাখতে স্ট্রেসের সময় খাবার ছোঁবেন না। এই সময় হজম ঠিক মতো হয় না।

হার্বাল কেয়ার শুনতে অদ্ভুত লাগলেও বেশ কিছু গাছের মূল রয়েছে যা লিভার সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ড্যানডেলিওন, মিল্ক থিসল বা হলুদের মূল লিভারের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে।

সাপ্লিমেন্ট প্রোটিন বা ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার সময় সতর্ক থাকুন। এমন সাপ্লিমেন্ট বাছুন যা লিভার ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করে। ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন সি লিভার পরিষ্কার রাখে। প্রোটিনের মধ্যে থাকা অ্যামাইনো অ্যাসিডও লিভার পরিষ্কার রাখার জন্য ভাল। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড লিভার সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

ওষুধ থেকে সাবধান– বেশি কিছু ওষুধ লিভারের ক্ষতি করে। এ সব ওষুধ থেকে দূরে থাকুন। কিছু পেনকিলার, যেমন টাইলেনল বা কোলেস্টেরলের ওষুধ লিভারের প্রভূত ক্ষতি করে।

কফি চা, কফি খেলে শরীরের ক্ষতি হয় এই কথাটা কত বার শুনেছেন? কফি খাওয়ার কিন্তু অনেক সুফল রয়েছে। গবেষণা জানাচ্ছে, নিয়মিত কফি খেলে লিভারের অসুখে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্তত ১৪ শতাংশ কমে যায়।

কিডনি :-

কিডনি ভালো রাখা কঠিন কোনো বিষয় নয়। মাত্র কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখলেই কিডনি ভালো থাকবে।

পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করুন

কিডনি সুস্থ রাখতে হলে বিশুদ্ধ পানি পানের বিকল্প নেই। প্রচুর পানি পান করুন। পানি কিডনিকে সচল রাখতে ও কিডনির স্বাভাবিক কার্যকলাপে সাহায্য করে। প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষ দৈনিক ৮-১০ গ্লাস পানি পান করলে কিডনি ভালো থাকবে।

কোমল পানীয়, কফি, চা

আমরা কোমল পানীয়, কফি, চাসহ বিভিন্ন খাবার খেয়ে থাকি। ক্যাফেইন তাৎক্ষণিকভাবে শারীরে ক্লান্তিভাব দূর করে।
তবে পানিস্বল্পতা তৈরি করে। শরীরে পানিস্বল্পতা হলে কিডনি স্টোনের সমস্যা হতে পারেন।তাই সতর্ক হোন।

ধূমপান

ধূমপান একটি ভয়াবহ বদঅভ্যাস।ধূমপানের ফলে ফুসফুস ও ব্লাড ভ্যাসেলকেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।মনে রাখবেন ধূমপান শুধু নিজের জন্য না অন্যের জন্য ক্ষতিকর।তাই ধূমপান ত্যাগ করুন।

পেইন কিলার

সামান্য ব্যথা হলেই পেইন কিলার খাওয়ার অভ্যাস থাকলে আজই তা ত্যাগ করুন। কিডনির কোষের অতিরিক্ত ক্ষতি করে পেইন কিলার। ব্যথা একান্ত অসহ্য হলে তবেই তা খান।

লবণ

খাওয়ার পাতে লবণ খান খুব? এ অভ্যাসে রাশ টানুন আজই। কিডনি অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীর থেকে বের করতে পারে না। ফলে বাড়তি লবণের সোডিয়ামটুকু রয়ে যায় কিডনিতেই। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিডনি।

প্রস্রাব আটকে রাখা

সুলভ শৌচালয় ব্যবহার করতে চান না, তাই বাইরে বেরোলে আটকে রাখেন প্রস্রাব? এমন অভ্যাস কিন্তু শরীরের জন্য খুব ক্ষতিকর। অনেকক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখলে তা কিডনিতে চাপ তো ফেলেই, এমনকি, চিকিৎসকদের মতে, এমন অভ্যাস দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখলে অচিরেই নষ্ট হতে পারে কিডনি। মাংস না খেয়ে মাছ-শাকসবজি খান। চর্বি কিডনির জন্য খুব ক্ষতিকারক। মাংসের ফাইবারও পরিমাণে বেশি হলে তা কিডনির ওপর চাপ ফেলে। তাই ঘন ঘন মাংস খাওয়ার প্রবণতা থাকলে তা কমান, খেলেও খুব পরিমাণ মেপে খান।

ডিম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

…………….. বর্তমান সময়ে আমরা জেনে নিতে পারি ডিমের সাথে জুড়ে থাকা আশ্চর্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। জানতে চলেছি ডিম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা। অনেক বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ সঠিক রিসার্চের মাধ্যমে বলে থাকেন দুধের পর ডিম এমন একটি খাবার যা আমাদের শরীরের ভিটামিনের অভাব পুরোপুরি ভাবে দূর করতে পারে।

ডিমের ভিতরে এমন কি আছে যা খাওয়ার পর শরীরের জন্য কতটা উপকারী হয়ে থাকে। ডিম খাওয়া শীতকালে বেশি ভালো না গ্রীস্মকালে। তাছাড়া আর একটি গুরুত্বপূণ বিষয় হচ্ছে ডিম খাওয়া কোন মানুষদের অনেক বেশি ক্ষতি করে এবং কোন মানুষদের ডিম খাওয়া একে বারেই উচিৎ নয়। তাই পোষ্টটি ভালোভাবে পড়লে জানতে পারবেন ডিম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা।

প্রতিদিন ডিম খেলে কি হয়

প্রতিদিন ডিম খেলে কি হয় অনেক বিশেজ্ঞ বলেছেন ডিম একটি খুব উন্নতমানের প্রোটিন ও ভিটামিন যুক্ত খাবার। ডিম খাওয়ার জন্য প্রত্যেক সময়ে ব্যবহার করা যায়। ডিম খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরকে সুস্থ্যই করে না মস্তিকের স্মরণ শক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।

আমাদের শরীর কোন রোগের কারণে অনেক দূর্বল হওয়ার পর শরীরে প্রোটিনের অভাব পূরণ করতে ডিম অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়াও পুরুষদের প্রতিদিন ডিম খাওয়ার ফলে বীর্য অনেক গাড় এবং ভারী করতে সাহায্য করে। তবে শরীর দুর্বল হয়ে গেলে অনেক ডাক্তাররা রোগীকে প্রতিদিন ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

সকালে ডিম খাওয়ার উপকারিতা

যখন কোন মানুষ রোগের কারণে শরীর অনেক দূর্বল হয়ে যায়, তখন প্রতিদিন সকাল বেলা নাস্তার সাথে মুরগীর ডিম খাওয়ার ফলে শরীরের শক্তি বৃদ্ধি পেতে সহায়তা করবে। দূর্বল হয়ে যাওয়া শরীরে যদি ১৫ থেকে ২০ দিন নিয়ম মেনে সকাল বেলা নাস্তার পাশাপাশি ডিম খাওয়া হয় তাহলে শরীর সুস্থ্য হতে থাকবে।

তবে বিশেজ্ঞরা বলেন ডিম হচ্ছে ভিটামিনের একমাত্র খনি। এছাড়াও ডিমের ভিতরে ভিটামিন এ,বি,ডি ছাড়াও বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন যুক্ত রয়েছে। 

ডিম কখন খাওয়া উচিত

অনেকের মতে ডিম শীতের সময় খাওয়া বেশি ভালো। কথাটি পুরোপুরি সঠিক নয়। ডিম শীতকালিন ছাড়াও গরমের সময়ে খাওয়া অনেক উপকারী। অনেক মায়েরা আছেন তাদের বাচ্চাদের সকাল বেলা নাস্তার সাথে সিদ্ধ ডিম দিয়ে থাকেন সে সব মায়েরা বাচ্চাদের প্রিয় মা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

অনেক বাচ্চা আছে শারীরিক দিক দিয়ে অনেক দূর্বল। সকাল বেলা নাস্তার পাশা পাশি ডিম খাওয়ার ফলে শরীরিক সুস্থ্যতা সহ মস্তিষ্ক বৃদ্ধি পেতে সহায়তা করবে এবং চোখের দৃষ্টিও বৃদ্ধি পাবে। সে জন্য আমাদের ডিম নিজেদের খাওয়া প্রয়োজন এবং বাচ্চাদের খাওয়ানো প্রয়োজন। 

ভিটামিন ডি অভাবের লক্ষণ

আমাদের শরীরে রোদের জন্য বাহিরের রাস্তায় অথবা বাড়ীর ছাদে উঠে থাকি। কেননা আমাদের শরীরের ভিটামিন ডি কমে যায় সে কারণে এবং আমারা সবাই প্রায় জানি যে রোগের আলোতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি থাকে। তাছাড়া বর্তমান সময়ে ভিটামিন ডি জনিত রোগ অনেক বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে পুরুষ বা মহিলা এবং ছোট বাচ্চাদেরও এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সে জন্য মানুষদের অতি তাড়াতাড়ী হাড় অনেক দূর্বল হয়ে যাচ্ছে।

ভিটামিন ডি অভাব জনিত রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ভিটামিন ডি-৩ সেবন করা। তাই প্রতিদিন সকাল বেলা নাস্তার পাশাপাশি সিদ্ধ ডিম খেলে ভিটামিন ডি-৩ অভাব দূর হয়ে যায়। সেই সাথে শরীরের হাড়ের দূর্বলতা পুরোপুরীভাবে ঠিক হয়ে যায়। তবে কিছুদিন পূর্বে ডিম নিয়ে একটি গবেষণা জানা যায়। ডিমের উপর সাদা অংশ না ভিতরের কুমস অর্থাৎ হলুদ অংশতে বেশি ভিটামিন থাকে। গবেষণা অনুযায়ী দুই অংশতেই প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন রয়েছে। সেই জন্য ডিমকে ভিটামিনের খনি বলা হয়েছে। 

ফার্মের মুরগীর ডিমের উপকারিতা

দেশী ডিমের বেশি উপকারি না ফার্মের ডিমের বেশি উপকারি। তবে বর্তমান ডাক্তাররা দেশী ডিমের থেকে ফার্মের ডিম বেশি উপকারি বলে জানিয়েছেন। তাছাড়া আরো বলেছেন ভিটামিন ডি অভাব পুরণের জন্য বেশি বেশি ফার্মের ডিম খাওয়ার জন্য। কেননা দেশী ডিমের থেকে ফার্মের ডিম গুলো খাওয়ার জন্য অনেক লাভ জনক হয়ে থাকে।

তাছাড়া দেশী ডিম ফার্মের ডিমের থেকে সাইজে অনেক ছোট হয়ে থাকে এবং উপকারের দিক থেকে লক্ষ্য করলে দেশী ডিম শরীরের জন্য বেশি উপকারি হয়ে থাকে। কেননা দেশী ডিমে কোন প্রকার কেমিক্যালও থাকে না এবং দেশী মুরগীদের খাবারে কোন প্রকার কেমিক্যাল থাকেনা। 

ডিম খাওয়ার অপকারিতা

ডিম খাওয়া উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিয়েছি। তো এখন আমরা জানব ডিম খাওয়ার ফলে কি রকম ক্ষতি হতে পারে এবং কোন মানুষদের ডিম খাওয়া একদম উচিৎ নয়। যে সব নারী-পুরুষদের হাই প্রেসার আছে তাদেরকে ডিমের কুসুম বা ডিমের ভিতরের হলুদ অংশটুকু খাওয়া কোন ভাবেই উচিৎ নয়। এছাড়াও যাদের ডায়াবেটিস আছে এবং হার্টের সমস্যা ভুগছেন তাদের ডিমের কুসুম খাওয়া একে বারেই উচিৎ নয়।

ডিমের কুসুমের ভিতর অনেক কোলেস্ট্রল পাওয়া যায়, যা হার্টের জন্য অনেক ক্ষতি হতে পারে। তবে সঠিক রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যায় ৩ সপ্তাহ ধরে প্রত্যেকদিন ৩টি করে ডিম খাওয়া হয় তাহলে শরীরে এক পাউন্ড পর্যন্ত ওজন বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।

যদি এভাবে ওজন বেড়ে যায় তাহলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের সমস্যা তৈরী হতে পারে। তবে প্রথম থেকে আপনী যদি সু-স্বাস্থ্যের অধিকারী হয়ে থাকেন তাহলে ডিম কম করে খাবেন। নিয়মিত ২টার বেশি ডিম খাবেন না। ডিম খাওয়ার আগে ভালোভাবে সিদ্ধ অথবা রান্না করে খেতে হবে, তাছাড়া কাঁচা ডিমে ভিটামিন ই খনিজ পুষ্টি উপাদান চোলিন সহ এন্টিঅক্সিডেন্ট লুটেন এবং জেএক্সানথিন পরিমাণে বেশি থাকে।

কাঁচা ডিম খাওয়া উচিত নয় কেন

কাঁচা ডিমে এন্টিঅক্সিডেন্ট লুটেন এবং জেএক্সানথিন থাকার কারণে খাওয়ার পরে বমি ভাব থেকে শুরু করে পেটে ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে। ডিম খাওয়ার আগেই ঠিকমত রান্না করা হয়েছে কিনা তা নিজের চোখে দেখে নিবেন। লক্ষ্য করা যায় কিছু মানুষ সিদ্ধ ডিম অথবা হাফ বয়েল ডিম খাওয়ার কিছু সময় পর শরীরে এলার্জি থাকার কারণে চুলকানি শুরু হয়ে যায়।

আর সেই সব মানুষদের ডিম খাওয়া থেকে দূরে থাকায় ভালো। এমতবস্থায় শারীরিক দিক দিয়ে ডিম খাওয়ার প্রয়োজন হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুসরণ করতে পারেন।

প্রতিদিন সকালে হাঁটার উপকারিতা

…………….. সকালে হাঁটা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারি। নিয়মিত সকালে হাঁটলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। দৈনন্দিন শারীরিক কার্যক্রম না হওয়ার ফলে শরীরে বাসা বাঁধে বিভিন্ন অসুখ। ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, আথ্র্রাইটিস, ওবেসিটি বা স্থুলতা, মাংসপেশির শক্তি কমে যাওয়া, অষ্ঠিওপোরোসিস বা হাড়ের ভঙ্গুরতা ইত্যাদি।

আসুন জেনে নেই সকালে হাঁটা যেসব রোগের ঝুঁকি কমায়।

শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমে

নিয়মিত হাঁটলে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমে। ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএল বাড়ে, মন্দ কোলেস্টেরল বা এলডিএল কমে।

ওজন কমিয়ে ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়

নিয়মিত হাঁটলে ওজন কমার কারণে স্তন ক্যানসারসহ অন্য অনেক ক্যানসারের ঝুঁকি কমে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও হাঁটা বেশ কার্যকর। হাঁটলে শরীরের পেশিতে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ে। ফলে রক্তের গ্লুকোজ কমে।

উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ স্ট্রোকের ঝুঁকি

উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিন সকালে হাঁটুন। ব্লক থাকলেও নিয়মিত হাঁটার কারণে আশপাশের ছোট রক্তনালিতে রক্ত সরবরাহ বাড়ে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। কমে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও।

হৃদযন্ত্র ফুসফুসের কর্মক্ষমতা

হাঁটার সময় হৃৎস্পন্দন আর শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি বাড়ে। ফলে হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসে রক্ত সরবরাহ বাড়ে।

হাড় গিঁটের জন্য ভালো

যারা নিয়মিত হাঁটেন, তাদের অস্টিওপোরোসিস কম হয়। হাড়ের জোড়া বা গিঁট সুস্থ থাকে। হাঁটার উপকার পেতে সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটুন।

তবে শুধু হাঁটলেই হবে না। হাঁটার জন্য কিছু নিয়ম আছে। সেসব নিয়ম না মেনে হাঁটলে কষ্টটাই বৃথা যাবে। তো আসুন জেনে নেয়া যাক সকালে হাঁটার কিছু নিয়ম-

হাঁটার আগে কি করবেন

প্রতিদিন হাঁটতে যাওয়ার আগে লক্ষ্য রাখুন আপনার পোশাকটি যথেষ্ট আরামদায়ক এবং হাঁটার উপযোগী কিনা। হাঁটার আগে একটু ঢিলেঢালা পোশাক পরে নিন। হাঁটার জন্য আরামদায়ক জুতো কিনে নিন। সাথে অবশ্যই খাবার পানি রাখুন। প্রতি ১৫ মিনিট পর পর পানি খান অল্প করে। তাহলে সকালের হাঁটার অভ্যাসটা উপভোগ্য হয়।

কতক্ষণ হাঁটবেন

প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪০ মিনিট হাঁটতে হবে। এতে করে রোগবালাই প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। সপ্তাহে ৪/৫ দিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটলেই আপনার শরীরের অনেক উন্নতি হবে। আত্মবিশ্বাসও বাড়বে।

কখন হাঁটবেন

হাঁটার ভালো সময় ভোর বেলা। এসময় কোলাহল কম থাকে, পরিবেশ তুলনামূলকভাবে কম দূষিত থাকে। তাই এসময়ের নির্মল বাতাসে হাঁটা শরীরের জন্য বেশি ভালো।

তবে চাইলে সুবিধামত সময়ে হাঁটা যায়। শরীরের কথা চিন্তা করলে বিকেলে হাঁটা সবচেয়ে ভালো। কারণ তখন পেশী নমনীয় থাকে। শরীরের তাপমাত্রা সকালের চাইতে বেশি থাকে। তখন সব কাজ শেষ করে টেনশন মুক্ত হয়ে হাঁটা যায়। কিন্তু সকালে হাঁটলে মাসেল ও জোড়া শক্ত হয়ে থাকে। আবার শরীরও ওয়ার্ম আপ হতে সময় বেশি লাগে। সে কথা চিন্তা করলে বিকেলে হাঁটা উত্তম। কিন্তু বিকেলে পরিবেশ দূষণ বেশি থাকে এটাও সমস্যা। সকালে দূষণ মুক্ত পরিবেশে হাঁটা যায়। তবে আপনি যখনি সময় পান সুবিধা মতো সময়ে হেটে নিবেন। চেষ্টা করবেন প্রতিদিন একই সময়ে হাঁটতে।

কোথায় হাঁটবেন?

সুন্দর, দূষণমুক্ত পরিবেশে হাঁটা উচিৎ। হাঁটার জায়গা যেন সমতল ও পরিষ্কার হয় তা লক্ষ্য রাখুন। বাড়ির বাগান, পার্কে, পরিষ্কার ফুটপাতে বা যেকোনো খোলা জায়গায় হাঁটতে পারেন। মাঝে মাঝে হাঁটার রাস্তা বা জায়গা বদল করুন। এতে একঘেয়েমি কাঁটবে, ভালো লাগবে।

মস্তিষ্কের স্মৃতি সংরক্ষণ ও বিপ্লবী ত্বত্ত

…………….. মস্তিষ্কে স্মৃতি কীভাবে সংরক্ষণ করা হয় তার জন্য বিপ্লবী নতুন তত্ত্ব।

 ব্রেন মেমোরি কনসেপ্ট থিওরি। 

ক্রিয়াকলাপের সাথে মস্তিষ্ক উত্তেজিত হয়।  নিউরনের বিভিন্ন গ্রুপ (স্নায়ু কোষ), বিভিন্ন চিন্তা বা উপলব্ধির জন্য দায়ী, কখনে তা কর্মের মধ্যে থাকে কিংবা  বাইরে চলে যায়।  

মেমরি হল নিউরনের একটি নির্দিষ্ট গ্রুপের পুনঃসক্রিয়তা, যা নিউরনের মধ্যে সংযোগের শক্তিতে ক্রমাগত পরিবর্তন থেকে গঠিত।

মেমরির তিনটি প্রধান ধাপ হল এনকোডিং, স্টোরেজ এবং পুনরুদ্ধার।  সমস্যা যেকোন পর্যায়ে  হতে পারে। 

আমরা কেন ভুলে যাই?

মস্তিস্ককে  হস্তক্ষেপ,  কখনও কখনও মানুষ হস্তক্ষেপ নামে পরিচিত একটি ঘটনার কারণে ভুলে যায়।  কিছু স্মৃতি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং অন্যান্য স্মৃতির সাথে হস্তক্ষেপ করে।  যখন তথ্য পূর্বে মেমরিতে সংরক্ষিত অন্যান্য তথ্যের সাথে খুব মিল থাকে, তখন হস্তক্ষেপ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

 গভীর ঘুমের মস্তিষ্কের তরঙ্গগুলি সময়মতো পুরোপুরি সিঙ্ক্রোনাইজ হয় এবং সেই সিঙ্ক্রোনাইজেশন আপনাকে আপনার স্মৃতিতে ‘সেভ বোতাম’ টিপতে সাহায্য করে”।

দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি  সংরক্ষণে মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস জড়িত।  হিপ্পোক্যাম্পাস স্মৃতির বিভিন্ন উপাদানকে একত্রে আবদ্ধ করে, যা মস্তিষ্কের পৃথক অঞ্চলে সংরক্ষিত থাকে।  অন্য কথায়, হিপোক্যাম্পাস স্মৃতি সংগঠনে সাহায্য করে। 

মস্তিষ্ক নিউরনের (সিনাপ্স) মধ্যে সংযোগ বিন্দুতে আণবিক গঠন পরিবর্তন করে স্মৃতি “রেকর্ড” করে।  একটি একক স্মৃতি লক্ষ লক্ষ সিন্যাপ্স জুড়ে ছড়িয়ে যেতে পারে। গড়ে প্রতি  নিউরনের প্রায় 1,000 সিন্যাপ্স আছে।  Purkinje কোষে 200,000 পর্যন্ত সিন্যাপ্স আছে। যারা স্মৃতি সংরক্ষক।

 কেন্ট স্কুল অফ বায়োসায়েন্সের গবেষণা মেশকোড তত্ত্বের বিকাশ ঘটিয়েছে, মস্তিষ্ক এবং স্মৃতি ফাংশন বোঝার জন্য এটি একটি বিপ্লবী নতুন তত্ত্ব।  এই আবিষ্কার মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এবং আলঝাইমার রোগগুলির মতো মস্তিষ্কের রোগগুলির চিকিত্সার একটি নতুন  শুরু হতে পারে।

 নতুন তত্ত্বটি মস্তিষ্ককে একটি জৈব সুপার কম্পিউটার হিসাবে একটি নিউরোনাল কোষের যান্ত্রিক কম্পিউটার হিসাবে কাজ করে ও একটি জটিল বাইনারি কোড  চালায় ।

  তথ্য-স্টোরেজ মেমরি অণুগুলির একটি বিশাল নেটওয়ার্ক মস্তিষ্কের প্রতিটি সিনাপ্সে স্যুইচ হিসাবে কাজ করে। তারা একটি জটিল বাইনারি কোড উপস্থাপন করে।  এটি মস্তিষ্কে ডেটা স্টোরেজ করার জন্য একটি শারীরিক অবস্থান চিহ্নিত করে এবং প্রস্তাব দেয় যে স্মৃতিগুলি সিনাপটিক স্ক্যাফোল্ডসগুলিতে অণুর আকারে লেখা হয়।

 এই তত্ত্বটি প্রোটিন অণুগুলির আবিষ্কারের উপর ভিত্তি করে গঠিত, যা ট্যালিন নামে পরিচিত। “স্যুইচ-জাতীয়” ডোমেনগুলি কোষের যান্ত্রিক বলের চাপগুলির প্রতিক্রিয়ায় আকার পরিবর্তন করে।  এই স্যুইচগুলির দুটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র রয়েছে, 0 এবং 1 এবং প্রতিটি অণুতে সঞ্চিত বাইনারি তথ্যের এই প্যাটার্নটি কোনও কম্পিউটারে ইতিহাস সংরক্ষণ করে। এটি ফাংশনের অনুরূপ পূর্ববর্তী ইনপুটটির উপর নির্ভরশীল।  এই বাইনারি ফর্ম্যাটে সঞ্চিত তথ্য কোষের সাইটোস্কেলটন দ্বারা উত্পাদিত সামান্য পরিবর্তন দ্বারা আপডেট করা যেতে পারে।

 মস্তিষ্কে, সিনাপেসের মধ্যে ট্রিলিয়ন মিলিয়ন নিউরনের মধ্যে বৈদ্যুতিক রাসায়নিক সংকেত দেখা যায়, যার প্রতিটিটিতেই ট্যালিনের রেণুগুলির একটি স্কাফোল্ড থাকে।   ট্যালিন প্রোটিনের জাল কাজটি তথ্য সংরক্ষণ এবং মেমরিকে এনকোড করার সম্ভাবনা সহ বাইনারি সুইচের একটি অ্যারেরকে প্রতিনিধিত্ব করে।

 এই যান্ত্রিক কোডিং প্রতিটি নিউরনে অবিচ্ছিন্নভাবে চালিত এবং সমস্ত কোষে প্রসারিত, শেষ পর্যন্ত পুরো জীবকে সমন্বিত করার জন্য একটি মেশিন কোডের যন্ত্র হিসেবে কাজ করে।  

জন্ম থেকেই, কোনও প্রাণীর জীবন অভিজ্ঞতা এবং পরিবেশগত পরিস্থিতি এই কোডটিতে লিখিত হতে পারে, তার অনন্য জীবনের একটি নিয়মিত আপডেট, গাণিতিক উপস্থাপনা তৈরি করে।

 অনেক দিক থেকে মস্তিষ্ক চার্লস ব্যাবেজ এবং তার বিশ্লেষণাত্মক ইঞ্জিনের প্রাথমিক যান্ত্রিক কম্পিউটারগুলির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।  এখানে, সাইটোস্কেলটন লিভার এবং গিয়ার হিসাবে কাজ করে যা রাসায়নিক এবং বৈদ্যুতিক সংকেতের প্রতিক্রিয়াতে কোষে গণনা সমন্বয় করে।  

আপনি যখন নতুন কিছু শিখেন, তখন তা মনে রাখার সর্বোত্তম উপায় হল এটির উপর ঘুমানো।  কারণ ঘুম আপনার সারা দিনের স্মৃতিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।  এটি নতুন স্মৃতিগুলিকে আগেরগুলির সাথে সংযুক্ত করতেও সহায়তা করে৷  এমনকি আপনি ঘুমানোর সময় সৃজনশীল নতুন ধারণা নিয়ে আসতে পারেন। 

খারাপ খবর হল ছোট ঘুমের মানুষ বিরল।  আমাদের বেশিরভাগের জন্য, মাত্র 5 বা 6 ঘন্টা ঘুম পাওয়া ভাল ধারণা নয়।  গবেষণা দেখায় যে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া আপনার যোগাযোগের ক্ষমতা, সমস্যা সমাধান এবং তথ্য স্মরণ করার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

পুটি মাছের ক্যালসিয়াম হাড় মজবুত করে

…………….. পুটি মাছের ক্যালসিয়াম হাড় মজবুত করে, জয়েন্ট পেইন কমাতে এর উপকারিতায় ডাক্তাররাও ব্যাপকভাবে সন্তুষ্ট পুটি মাছ নিয়ে যেটা কেউ স্পষ্ট করে বলে না, আজ সেটাই প্রথমেই জেনে নিন। আমাদের দেশে জয়েন্ট পেইন এত দ্রুত বাড়ছে যে অনেকেই বয়স না হয়েও হাঁটুতে ব্যথা, কোমরে ব্যথা আর হাড় দুর্বলতার কষ্টে ভুগছেন। অনেকে বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট খেয়েও তেমন ফল পাচ্ছেন না, কারণ শরীর ঠিকভাবে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে পারছে না। এই অবস্থায় খাবারের মাধ্যমে সঠিক ক্যালসিয়াম পাওয়া না গেলে হাড়ের ঘনত্ব কমে যায় এবং ব্যথা দিনদিন বেড়ে গিয়ে নড়াচড়া করাও কষ্টকর হয়ে ওঠে। ভয়ানক বিষয় হলো, যাদের হাড় দুর্বল তারা সামান্য পড়ে গেলেও বড় ধরনের ইনজুরিতে ভুগতে পারেন। তাই খাবারের উৎস থেকে বিশুদ্ধ ক্যালসিয়াম নেওয়া এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে পুটি মাছকে এখন গবেষকরা নতুনভাবে দেখছেন। ছোট এই মাছটি পুরোটা খাওয়া যায়, তাই এতে থাকা ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং ওমেগা থ্রি শরীরে খুব দ্রুত শোষিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুটি মাছের ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্টের চেয়ে দ্রুত কার্যকর হয়। কারণ এতে প্রাকৃতিক খনিজ রয়েছে, যা হাড় পুনর্গঠনের কাজে সরাসরি সাহায্য করে। নিয়মিত পুটি মাছ খেলে হাঁটু, কোমর এবং কাঁধের জয়েন্টে থাকা প্রদাহ ধীরে ধীরে কমে। ফলাফল হিসেবে ব্যথা কমে এবং চলাফেরায় আগের মতো স্বাচ্ছন্দ্য ফিরে আসে। যারা নিয়মিত সাঁতার বা হাঁটা করেন, তারা পুটি মাছ খেলে আরও শক্তি অনুভব করেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, পুটি মাছের প্রোটিন হাড়ের ভেতরের কোলাজেনকে শক্তিশালী করে এবং এই কোলাজেনের ওপরই পুরো হাড় কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকে। তাই যখন কোলাজেন শক্ত হয়, হাড়ও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি মজবুত হয়ে ওঠে। ডাক্তাররা বলছেন, যাদের জয়েন্ট পেইন দীর্ঘদিন ধরে আছে, তারা সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন পুটি মাছ খেলে তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যেই পরিবর্তন বুঝতে পারবেন। এতে থাকা ভিটামিন ডি শরীরকে ক্যালসিয়াম ঠিকভাবে ব্যবহার করতে সাহায্য করে। যারা প্রতিদিন রোদে থাকতে পারেন না, তাদের জন্য এই ভিটামিন ডি বিশেষভাবে জরুরি।

পুটি মাছ রক্তের প্রদাহ কমাতেও উপকারী। যখন শরীরে প্রদাহ কমে, তখন ব্যথা, জড়তা এবং শক্তভাব ধীরে ধীরে কমে যায়। অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠে হাঁটতে পারেন না ব্যথার কারণে। পুটি মাছের নিয়মিত গ্রহণ সেই সকালের ব্যথা কমাতে উল্লেখযোগ্যভাবে ভূমিকা রাখে। এতে থাকা ওমেগা থ্রি হৃদযন্ত্রের জন্যও উপকারী এবং রক্তপ্রবাহ ভালো রাখে, যা জয়েন্টে পুষ্টি পৌঁছাতে সাহায্য করে। এই উন্নত রক্তপ্রবাহ জয়েন্টের পুনরুদ্ধারের গতিও বাড়ায়।

যাদের বয়স চল্লিশের পর, তাদের জন্য পুটি মাছ আরও প্রয়োজনীয়। কারণ হাড়ের ক্ষয় এই বয়সে দ্রুত বাড়ে। নারীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা যায়। অনেক ডাক্তার তাই বয়সের সঙ্গে পুটি মাছকে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দেন। এতে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ হয় এবং হাড়ের ভেতরের ছোট ফাটলগুলোও ধীরে ধীরে সেরে যায়। নিয়মিত পুটি মাছ খেলে হাড়ের শক্তি বাড়ে এবং ভবিষ্যতের জটিলতা যেমন অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি কমে।

পুটি মাছ রান্না করাও সহজ। ভাজা, ভর্তা, ঝোল বা শাকের সঙ্গে দিলে সবভাবেই উপকার ঠিকই পাওয়া যায়। সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায় কম তেলে রান্না করলে। এতে ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য খনিজ অক্ষুণ্ণ থাকে। যারা বাচ্চাদের জন্য চিন্তিত, তাদের জন্য পুটি মাছ দারুণ একটি সাশ্রয়ী সমাধান, কারণ শিশুদের দ্রুত হাড় ও দাঁত মজবুত হয়। অনেক মা অভিযোগ করেন, বাচ্চারা দুধ খেতে চায় না। তাদের জন্য পুটি মাছ নিয়মিত দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, ছোট এই মাছটিই হাড়ের এত বড় সমাধান হতে পারে তা অনেকেই জানেন না। সাধারণত বড় মাছকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, কিন্তু পুটি মাছের পুষ্টিগুণ গবেষণায় প্রকাশ পাওয়ার পর অনেক ডাক্তারই এখন এই মাছকে বিশেষ সুপারিশ করেন। যারা হাঁটু দুর্বলতায় ভুগছেন, তারা প্রতিদিনের খাবারে অল্প পরিমাণ হলেও পুটি মাছ রাখতে পারেন। এক মাস খেলে পার্থক্য বুঝতে পারবেন।

যাদের জয়েন্ট পেইন রাতে বেশি বাড়ে, তারা রাতের খাবারের সঙ্গে পুটি মাছ নিলে আরাম অনুভব করবেন। এতে খনিজ রাতভর শরীরে কাজ করে এবং সকালের ব্যথা কমিয়ে দেয়। পুটি মাছ শরীরকে শক্তিশালী করে এবং হাড়ের ভেতরের কোষগুলো পুনর্গঠিত করতে সাহায্য করে। যারা ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খেতে চান না, তারা প্রাকৃতিকভাবে পুটি মাছ থেকে ক্যালসিয়াম পেতে পারেন। এতে কোনো সাইড ইফেক্ট নেই এবং শরীর এটি সহজে গ্রহণ করে।

সবশেষে বলা যায়, হাড় মজবুত করা এবং জয়েন্ট পেইন কমানো শুধু ওষুধে নয়, খাদ্যাভ্যাসেও নির্ভর করে। পুটি মাছ সেই খাদ্যাভ্যাসের সবচেয়ে সহজ, সাশ্রয়ী এবং কার্যকর উপাদান। নিয়মিত খাবারে পুটি মাছ যোগ করলে আপনি হাড়কে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে পারবেন। যারা হাঁটতে চান, ব্যথামুক্ত থাকতে চান এবং শক্ত হাড় চান, তারা আজ থেকেই পুটি মাছকে খাদ্যতালিকায় রাখুন।

প্রতিদিন সকালে শরীরে রোদ লাগান- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান।

…………….. সকালের রোদের উপকারিতা অনেক, বিশেষ করে এটি ভিটামিন ডি-এর প্রাকৃতিক উৎস যা হাড় মজবুত করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, মেটাবলিজম উন্নত করে, ঘুমের মান ভালো রাখে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। সকালের নরম রোদ, বিশেষত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে, ত্বককে খোলা রেখে ১৫-৩০ মিনিট নিলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি পায়, যা হাড়, পেশি ও সামগ্রিক সুস্থতার জন্য জরুরি এবং মেজাজ ভালো রাখে।

✅✅সকালের রোদের প্রধান উপকারিতা:

ভিটামিন ডি উৎপাদন: সূর্যের UVB রশ্মি ত্বকে ভিটামিন ডি৩ তৈরি করতে সাহায্য করে, যা হাড়ের স্বাস্থ্য, ক্যালসিয়াম শোষণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য অপরিহার্য।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণ ও রোগের বিরুদ্ধে শক্তিশালী করে তোলে।

মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি: রোদ মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং মনকে উৎফুল্ল করে তোলে।

ঘুমের মান উন্নত করা: সকালের আলো আমাদের দেহের দেহঘড়ি (সার্কাডিয়ান রিদম) ঠিক রাখে, যা রাতে ভালো ঘুমের জন্য

মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণে সাহায্য করে।

বিপাক ক্রিয়া ও ওজন নিয়ন্ত্রণ: সকালের রোদ বিপাক ক্রিয়া বাড়াতে সহায়ক, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

হাড় ও পেশীর স্বাস্থ্য: ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে, যা হাড় ও পেশী মজবুত রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কখন এবং কীভাবে রোদ পোহাবেন:👉👉

সময়: সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে, যখন আপনার ছায়া আপনার চেয়ে ছোট হয়, সেই সময়টা ভিটামিন ডি তৈরির জন্য সবচেয়ে ভালো।

পরিমাণ: সপ্তাহে কয়েক দিন (২-৩ দিন) ১০-৩০ মিনিট ধরে রোদ পোহানো উচিত। কীভাবে: মুখ, হাত বা পা খোলা রেখে রোদ লাগান, যাতে ত্বক সরাসরি সূর্যের আলো পায়। তবে সরাসরি দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকা এড়িয়ে চলুন।

জটিল রোগের সহজ চিকিৎসা!👇👇

১। রক্ত শুদ্ধ করে: কচুর লতি
২। ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক:বাঁধাকপি
৩। শক্তি বাড়ায়: খেজুর, কলা
৪। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে: ডুমুর
৫। দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে: বাদাম
৬। গ্যাস কমায়: আদা
৭। মুখের দুর্গন্ধ দূর করে: দারুচিনি
৮। হাড় মজবুত করে: ডুমুর
৯। দাঁতের ব্যথা কমায়: রসুন / লবঙ্গ

লবঙ্গ-আদা-দারুচিনি- ভেজানো পানি খাওয়ার ম্যাজিক!!!

Health বার্তা
…………….. ১৫ দিন লবঙ্গ-আদা-দারুচিনি ভেজানো পানি খাওয়ার ম্যাজিক ১. ফুসফুস পরিষ্কার থাকে, শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়। ২. হজমক্ষমতা উন্নত হয় এবং গ্যাসের সমস্যা কমে। ৩. ত্বক উজ্জ্বল ও পরিষ্কার দেখায়। ৪. লিভার সম্পূর্ণভাবে ডিটক্স হয়। ৫. রাতে গভীর ও আরামদায়ক ঘুম হয়। ৬. মানসিক চাপ কমে, মন শান্ত থাকে। ৭. দাঁত ও মাড়ির সংক্রমণ কমে। ৮. গলা ব্যথা ও কাশি দ্রুত সারে। ৯. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ১০. পেটে কৃমি নির্মূল হয়। ১১. হৃদযন্ত্র সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকে। লবঙ্গ ভেজানো পানির উপকারিতা: হজমশক্তি বৃদ্ধি: এটি হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে, গ্যাস ও অম্বল কমাতে সাহায্য করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় গলা ব্যথা ও সর্দি: ঠান্ডা লাগা ও গলা ব্যথার জন্য এটি খুবই কার্যকর। ওজন নিয়ন্ত্রণ: কিছু গবেষণায় ওজন কমাতে সাহায্য করার কথা বলা হয়েছে। মুখের স্বাস্থ্য: ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে মুখের দুর্গন্ধ দূর করে ও দাঁতের ব্যথায় আরাম দেয়। ত্বকের উজ্জ্বলতা: এটি ত্বককে উজ্জ্বল করতে এবং ব্রণের দাগ কমাতে সাহায্য করে। মানসিক চাপ: এতে থাকা ইউজেনল মানসিক চাপ কমাতে পরিচিত। [Magic of drinking clove-ginger-cinnamon soaked water for 15 days 1. Lungs are clear, breathing is normal. 2. Improves digestion and reduces gas problems. 3. Skin looks bright and clear. 4. The liver is completely detoxified. 5. Deep and comfortable sleep at night. 6. Stress is reduced, mind is calm. 7. Reduces tooth and gum infections. 8. Sore throat and cough heal quickly. 9. Increases immunity. 10. Stomach worms are eliminated. 11. The heart remains healthy and normal. Benefits of Clove Soaked Water: Improves Digestion: It improves digestion, helps reduce gas and heartburn. Immunity: Being rich in antioxidants, it boosts the body’s immunity Sore Throat and Cold: It is very effective for cold and sore throat. Weight control: Some studies have shown it to help with weight loss. Oral Health: Fights bacteria, eliminates bad breath and relieves toothache. Skin brightening: It helps to brighten the skin and reduce acne scars. Stress: The eugenol in it is known to reduce stress.]

>>>

কীভাবে তৈরি ও পান করবেন:
প্রথেম ৬ থেকে ৮ টি লবঙ্গ, সাথে দিতে পারেন এক টুকরো আদা কুচি আর 2 টি দারুচিনি ২ কাপ পানিতে ফুটিয়ে ১ কাপ তৈরী করে এর সাথে এক চা চামচ মধু দিয়ে চায়ের মতো পান করুন। সব চেয়ে বেশি উপকার পাবেন যদি রাতে ভিজিয়ে রেখে সকালে ফুটিয়ে পান করেন।– [First 6 to 8 cloves, you can add a piece of ginger and 2 cinnamon sticks in 2 cups of water, make 1 cup and drink it like tea with a teaspoon of honey. You will get more benefits if you soak it overnight and boil it in the morning].

প্রস্টেট গ্লান্ড…….

কি করে বুঝতে পারবেন?

প্রস্টেট গ্লান্ড বড় হয়েছে?

বয়স্ক পুরুষের প্রস্টেট গ্লান্ড বৃদ্ধি।

কি কি লক্ষন থাকলে বুঝবেন

এটি সাধারণ প্রোস্টেট বৃদ্ধি??

নাকি ক্যান্সারের দিকে যাচ্ছে??

🧧সাধারন লক্ষন গুলো কি কি?🧧

🌍1.ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া বিশেষত রাতে।

প্রস্রাব জ্বালা করা।

🌍2. প্রস্রাব শেষ করতে বেশ সময় লাগছে।

🌍3. সহবাসের পর অস্বস্তি লাগে, জ্বালা করে।

🌍4. প্রস্রাবের চাপ উঠলে ধরে রাখতে পারে না।

🌍5.বয়স ৫০ এর উপরে তবে এর কমেও হয়।

🌍5. এন্টিবায়োটিক খেয়েও কাজ হয় না।

রোগীর ওজন বেশি।

🌍6. ঘন ঘন চর্বি জাতীয় খাদ্য খাওয়া।

🧧প্রোস্টেট ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষন🧧

🌐7. কোনো বিশেষ লক্ষন নাও থাকতে পারে।

🌐8. প্রস্রাব করতে খুবই কষ্ট হয়।

🌐9. প্রস্রাবের সময় প্রচন্ড ব্যথা করে।

🌐10. বীর্যপাতের সময় প্রচন্ড কষ্ট।

🌐11. প্রস্রাব বা বীর্যপাতের সময় রক্ত এলে

🌐12. মুত্র ত্যাগে অক্ষমতা।

🌐13. পেলভিক অংশে বা তল পেটে ফোলা ফোলা ভাব।

🌐14. পা ও পায়ের পাতা অসাড় হয়ে যাওয়া।

🌐হাড়ে ব্যথা বা সামান্য আঘাতেই হাড় ভেংগে যাওয়া।

🧧কিভাবে রোগ সনাক্ত করা যায়?🧧

⛔লক্ষন গুলো দিয়ে।

⛔15. রক্তের Prostate Specific Antigen বা PSA পরীক্ষা।

⛔16. আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষা প্রস্রাবের চাপ সহ।

⛔17. মলদ্বারে আংগুল দিয়ে পরীক্ষা। (DRI).

⛔18. মাল্টিপ্যারামেট্রির MRI পরীক্ষা।

মলদ্বার থেকে কোষ নিয়ে Biopsy করা।

⛔19. উপরের পরীক্ষায় প্রোস্টেট ক্যান্সার নির্নয় করা যায়।

🧧প্রোস্টেট বড় হলে বা করনীয়। 🧧

🗾20. অবশ্যই একজন ইউরোলজিস্টকে দেখাতে হবে। ইনিই কিডনি সার্জারী বিশেষজ্ঞ।

🗾21. অল্প থাকলে ঔষধ খেলে ভাল য।থাকে।

🧧প্রোস্টেট ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়লে কি হয়– 🧧

🍏22. আগেভাগেই চিকিৎসা না করালে সারাশরীরে ছড়ায়।

🍏23. বেশি ছড়ায় হাড়ে, এক্সিয়াল স্পাইন, পেলভিক হাড়ে।

🍏24. এসময় পেটের সিটি স্ক্যান করেও বোঝা যায়।

🍏25. ক্যানসার ছড়িয়ে না পড়লে প্রোস্টেট কেটে ফেলে দিলে এবং /অথবা রেডিক্যাল

🍏26. রেডিওথেরাপি দিলে রোগী ভাল থাকে।

🍏কিন্তু এর জটিলতা আছে।

🧧প্রোস্টেট বড় বা ক্যান্সারের কারণ🧧

🍅27. মুল কারণ অজানা।

🍅28. স্থুলকায় বা মোটা।

🍅29. ঘন ঘন চর্বি খাওয়া।

🍅30. পুরুষ হরমোন, এন্ড্রোজেন।

🙄31. এক্ষেত্রে ঔষধ দিয়ে এন্ড্রোজেন কমালে

🍅32. বা অন্ডকোষ ফেলে দিলে উপকার হয়।

🧧গুরুত্বপূর্ণ কথা।🧧

🌎33. প্রাথমিক লক্ষন দেখা দিলেই অবহেলা না করে অবশ্যই একজন ভাল

🌎34. ইউরোলজিস্টকে দেখান ও ঔষধ খান।

🌎35. তাতেও ভাল না হলে ওনার পরামর্শে অপারেশন করান।

🧧প্রতিরোধের উপায় কি🧧

🌎36. অতিরিক্ত ওজন না হওয়া।

🌎37. নিয়মিত ব্যায়াম করে।

🌎38. প্রতিদিন শাক খাওয়া।

🌎39. অল্প থাকতেই চিকিৎসা করা।

মৌরি কেন পৃথিবীর সেরা প্রাকৃতিক সমাধান?স্টেট গ্লান্ড

…………….. পেটের সব গ্যাস ও বদহজম দূর করতে মৌরি কেন পৃথিবীর সেরা প্রাকৃতিক সমাধান|

প্রতিদিন গ্যাসের সমস্যায় বুক জ্বালাপোড়া কি আপনার জীবনকে যন্ত্রণাদায়ক করে তুলছে এবং আপনি কি সবসময় এক অজানা আলসারের ভয়ে ভীত থাকেন? অতিরিক্ত এসিডিটি আপনার পাকস্থলীর দেওয়াল নিঃশব্দে পুড়িয়ে দিয়ে ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি আপনার শরীরে রোপণ করার গভীর ষড়যন্ত্র করছে। বিস্ময়কর তথ্য হলো আপনার হাতের নাগালে থাকা সামান্য মৌরি আপনার দীর্ঘদিনের জেদি গ্যাস্ট্রিক দূর করতে পৃথিবীর অন্যতম সেরা প্রাকৃতিক সমাধান হতে পারে। মৌরির ভেতরের বিশেষ নির্যাস পাকস্থলীর অতিরিক্ত এসিড প্রশমিত করে কয়েক মিনিটের মধ্যেই আপনাকে এক অদ্ভুত প্রশান্তি দিতে সক্ষম। ২০১৬ সালে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ ফার্মাকোলজি তাদের ফোয়েনিকুলাম ভালগারে অ্যান্ড গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ডিসঅর্ডার নামক গবেষণায় মৌরির অসাধারণ কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। মৌরিতে থাকা বিশেষ এনজাইম পাচক রসের প্রবাহ বাড়িয়ে দিয়ে দ্রুত খাবার হজম করতে এবং পেটের ফোলাভাব কমাতে বৈজ্ঞানিকভাবে সরাসরি কাজ করে। বিজ্ঞানীদের মতে সর্বোচ্চ ফল পেতে আধা চা চামচ মৌরি এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি পান করা সবথেকে কার্যকর ও বৈজ্ঞানিক নিয়ম। গ্যাস্ট্রিকের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে এবং পাকস্থলীকে সবসময় সচল রাখতে আজ থেকেই মৌরি সেবনের এই সহজ প্রাকৃতিক নিয়মটি অনুসরণ করুন। এটি কেবল আপনার এসিডিটি কমাবে না বরং আপনার অন্ত্রের বিষাক্ত ময়লা বের করে দিয়ে আপনাকে সারাদিন চনমনে এবং রোগমুক্ত রাখতে সাহায্য করবে। আপনার পরিপাকতন্ত্র সুস্থ থাকলে আপনি দীর্ঘকাল বেঁচে থাকবেন এবং প্রাণবন্ত জীবন উপভোগ করতে পারবেন যা কোনো ওষুধ আপনাকে দিতে পারবে না। নিয়মিত এমন ঘরোয়া টিপস পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে ফলো করুন এবং নিজেকে সুস্থ রাখুন।

কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়ার গোপন গুণটি জানুন-  সুখী জীবন উপভোগ করুন।

…………….. পুরুষের দাম্পত্য শক্তি দ্রুত ফিরিয়ে আনতে কাঁচা পেঁয়াজের এই গোপন গুণটি জানুন

দাম্পত্য জীবনের ক্লান্তি আর শারীরিক দুর্বলতা কি আপনার আত্মবিশ্বাস কেড়ে নিয়ে আপনাকে এক বিষণ্ণ জীবনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে? এই সমস্যার সঠিক সমাধান না করলে আপনার ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলো চিরতরে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ংকর ঝুঁকি রয়েছে। চমকপ্রদ তথ্য হলো আপনার রান্নাঘরের সাধারণ কাঁচা পেঁয়াজ আপনার শরীরের জীবনীশক্তি অবিশ্বাস্য গতিতে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। পেঁয়াজের বিশেষ নির্যাস শরীরের হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে আপনাকে ভেতর থেকে এক নতুন যৌবন দিতে জাদুর মতো কাজ করে। ২০২১ সালে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ তাদের ইমপ্যাক্ট অফ অলিয়াম সেপা অন ভাইটালিটি নামক গবেষণায় এই বিস্ময়কর তথ্য প্রকাশ করেছে। পেঁয়াজে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে ধমনীর নমনীয়তা বজায় রাখতে বৈজ্ঞানিকভাবে সরাসরি সহায়তা করে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ ফলাফল পেতে প্রতিদিন দুপুরের খাবারের সাথে অন্তত ৫০ গ্রাম কাঁচা পেঁয়াজ সালাদ হিসেবে খাওয়া সবথেকে কার্যকর নিয়ম। পেঁয়াজের গুণাগুণ অটুট রাখতে এটি কাটার সাথে সাথেই সেবন করা এবং অতিরিক্ত তাপে রান্না না করা একটি বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি। দাম্পত্য সুখ বজায় রাখতে এবং শরীরের হারানো তেজ ফিরে পেতে আজ থেকেই কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়ার এই সঠিক অভ্যাসটি গড়ে তুলুন। এটি কেবল আপনার শক্তি বৃদ্ধি করবে না বরং আপনার হার্টকে সুরক্ষিত রেখে আপনাকে দীর্ঘকাল কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করবে। একটি ছোট প্রাকৃতিক অভ্যাস আপনার জীবনকে মধুময় এবং আনন্দময় করে তুলতে পারে যা আপনার শ্রেষ্ঠ সম্পদ।

সাদা তিল খাওয়ার নিয়ম|সাদা তিল খাওয়ার নিয়ম ……..

…………….. বৈজ্ঞানিক নিয়মটি না জানলে আপনি সব পুষ্টি হারাবেন

আপনার হাড় কি কাঁচের মতো ভঙ্গুর হয়ে যাচ্ছে এবং আপনি হয়তো টেরও পাচ্ছেন না? এই নীরব হাড়ের ক্ষয় আপনাকে অকাল পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দিয়ে চিরদিনের জন্য বিছানায় বন্দী করে ফেলতে পারে। অথচ সামান্য কিছু সাদা তিল আপনার হাড়কে পাথরের মতো শক্ত করে তোলার ক্ষমতা রাখে। এই ছোট বীজটি আপনার শরীরের ক্যালসিয়ামের অভাব পূরণ করে বার্ধক্য থামিয়ে দিতে অত্যন্ত সক্ষম। ২০১৯ সালে জার্নাল অফ ফুড সায়েন্স তাদের নিউট্রিশনাল পটেনশিয়াল অফ সেসামি সিডস নামক গবেষণায় তিলের কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করেছে। তিলের সেসামিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হাড়ের কোষ পুনর্গঠনে এবং প্রদাহ কমাতে বৈজ্ঞানিকভাবে সরাসরি কাজ করে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ ক্যালসিয়াম পেতে প্রতিদিন এক চামচ সাদা তিল হালকা ভেজে খুব ভালো করে চিবিয়ে খাওয়া সবথেকে সেরা নিয়ম। শরীরের পুষ্টি শোষণ নিশ্চিত করতে এই বীজটি খাওয়ার আগে অন্তত দুই ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা একটি কার্যকর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। হাড়ের সুরক্ষায় এবং জয়েন্টের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা নির্মূল করতে আজ থেকেই সাদা তিল খাওয়ার এই সঠিক নিয়মটি মেনে চলুন। এটি কেবল আপনার হাড় মজবুত করবে না বরং আপনার দাঁত ও নখের সুস্থতা নিশ্চিত করে আপনাকে প্রাণবন্ত রাখবে। আপনার সুস্থ হাড়ই হলো সচল জীবনের প্রধান চাবিকাঠি যা আপনাকে দীর্ঘকাল আত্মবিশ্বাসী এবং কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করবে। নিয়মিত এমন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য টিপস পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে ফলো করুন এবং সুস্থ থাকুন।।

গলার সব ইনফেকশন সরাতে গোলমরিচ !!!!!

…………….. গলার সব ইনফেকশন সরাতে গোলমরিচ কেন দামী অ্যান্টিবায়োটিকের চেয়ে বেশি শক্তিশালী জানুন গলার অসহ্য ব্যথা আর টনসিলের সংক্রমণ কি আপনার খাবার খাওয়া এবং কথা বলাকে যন্ত্রণাদায়ক করে তুলছে? এই সংক্রমণ অবহেলা করলে তা ধীরে ধীরে আপনার ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়ে আপনাকে বড় ধরণের শারীরিক বিপদের মুখে ফেলতে পারে। বিস্ময়কর তথ্য হলো গোলমরিচ আপনার গলার ইনফেকশন সরাতে অনেক সময় দামী অ্যান্টিবায়োটিকের চেয়েও দ্রুত এবং কার্যকর ফলাফল দিতে সক্ষম। গোলমরিচের প্রতিটি দানা প্রাকৃতিকভাবেই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে আপনার শ্বাসনালীকে সুরক্ষা দেওয়ার এক অদম্য শক্তি রাখে। ২০২০ সালে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ ফার্মাসিউটিকস তাদের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রপার্টিজ অফ পাইপারিন নামক গবেষণায় গোলমরিচের এই অসামান্য গুণাগুণ প্রমাণ করেছে। গোলমরিচে থাকা পাইপারিন ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর ভেঙে দিয়ে সংক্রমণের উৎস নির্মূল করতে বৈজ্ঞানিকভাবে সরাসরি কাজ করে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী গলার ব্যথা দ্রুত কমাতে প্রতিদিন ৩টি গোলমরিচ চিবিয়ে খাওয়ার পর এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করা সবথেকে সেরা নিয়ম। বিশেষ ক্ষেত্রে গোলমরিচের গুঁড়ো মধুর সাথে মিশিয়ে সেবন করাও গলার সুরক্ষায় একটি অত্যন্ত কার্যকর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। গলার সংক্রমণ থেকে বাঁচতে এবং প্রাকৃতিক উপায়ে সুস্থ হতে আজ থেকেই গোলমরিচের এই ভেষজ গুণের ওপর আস্থা রাখুন। এটি কেবল আপনার ব্যথা কমাবে না বরং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে আপনাকে সারা বছর সর্দি ও কাশি থেকে মুক্ত রাখবে। প্রকৃতির এই ক্ষুদ্র দান আপনার বড় বড় শারীরিক সমস্যা সমাধানে এক অদ্ভুত ভূমিকা রাখতে পারে যা আপনাকে দীর্ঘায়ু দান করবে।

কাজুবাদাম ও মধু একসাথে খেলে ………..

…………….. কাজুবাদাম ও মধু একসাথে খেলে আপনার দাম্পত্য শক্তি কতটা বাড়বে আজ দেখুন আপনার শরীরের জীবনীশক্তি কি অসময়েই কমে যাচ্ছে এবং আপনি কি সবসময় শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তিবোধ নিয়ে এক বিষণ্ণ জীবন অতিবাহিত করছেন? শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তির অভাবে আপনার এই দুর্বলতা আপনার হার্ট ও নার্ভ সিস্টেমকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে আপনার জীবনের আনন্দ কেড়ে নিতে পারে।আশ্চর্যজনক তথ্য হলো কাজুবাদাম এবং মধুর এক অদ্ভুত মিশ্রণ আপনার শরীরের হারানো তেজ ও প্রাণশক্তি অবিশ্বাস্য গতিতে ফিরিয়ে আনতে জাদুর মতো কাজ করতে পারে। এই দুটি প্রাকৃতিক উপাদানের সমন্বয় আপনার রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে আপনাকে ভেতর থেকে এক নতুন যৌবন দিতে এবং অদম্য শক্তিশালী করতে সক্ষম। ২০১৬ সালে ইউরোপীয় জার্নাল অফ নিউট্রিশন তাদের নাট অ্যান্ড হানি সিনার্জি ইন এনার্জি নামক গবেষণায় এই মিশ্রণের অসামান্য কার্যকারিতা উল্লেখ করেছে। কাজুবাদামের জিঙ্ক এবং মধুর গ্লুকোজ একত্রে মিশলে শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের উৎপাদন বাড়িয়ে দাম্পত্য শক্তি পুনর্গঠনে বৈজ্ঞানিকভাবে সরাসরি সহায়তা করে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে ৫টি কাজুবাদাম এক চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে নিয়মিত সেবন করা সবথেকে কার্যকর ও বিজ্ঞানসম্মত নিয়ম। দাম্পত্য জীবনের সুখ ও শান্তি বজায় রাখতে এবং শারীরিক দুর্বলতা দূর করতে আজ থেকেই এই প্রাকৃতিক ও শক্তিশালী টনিকের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখুন। এটি কেবল আপনার শক্তি বৃদ্ধি করবে না বরং আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে আপনাকে দীর্ঘকাল তরুণ ও আত্মবিশ্বাসী রাখতে সাহায্য করবে। প্রকৃতির বিশুদ্ধ উপহারের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আমাদের প্রতিটি সমস্যার স্থায়ী ও নিরাপদ সমাধান যা আপনার জীবনকে আরও সুন্দর করবে। নিয়মিত এমন তথ্যবহুল এবং গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য টিপস পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে ফলো করুন এবং সুস্থ থাকুন।