– ভ্রমণ প্রাণায়াম একটি অসাধারণ ব্যায়াম।
আপনি হাটতে হাটতে এটি চর্চা করতে পারেন। যাদের ডায়াবেটিস আছে, নিয়মিত কয়েক মাইল পথ হাঁটার অভ্যাস অথবা হাঁটতে গিয়ে সঙ্গীদের চেয়ে পিছিয়ে পড়েন, তারা অনায়াসে এটি চর্চা করতে পারেন। এতে আপনার হাটার গতি বাড়বে।
উপকারিতা :
১. নিয়মিত ভ্রমণ প্রাণায়াম চর্চা করলে বার্ধক্যের প্রচলিত উপসর্গগুলো সহজে আপনার শরীরে দানা বাধতে পারবে না। আপনি শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকবেন।
২. শরীরের নমনীয়তা ও কর্মক্ষমতা বাড়বে।
৩. সঠিক নিয়মে নিয়মিত চর্চা করলে যক্ষা, হাঁপানি ও ইনফ্লুয়েঞ্জা হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে কমে যাবে। যাদের এ সমস্যাগুলো আছে তারা পরিমিত মাত্রায় চর্চা করলে আরোগ্য পাবেন।
৪. আপনার ফুসফুস ও হৃদযন্ত্র আগের চেয়ে ভালোভাবে কাজ করবে।
৫. আগে যে পথ হাঁটতে ৩০ মিনিট লাগতো এখন তা মাত্র ১২-১৫ মিনিটে যেতে পারবেন।
৬. নিয়মিত ভ্রমণ প্রাণায়াম চর্চা করলে আপনার হৃদপিণ্ড ও মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বাড়বে। স্মৃতিশক্তিও আগের চেয়ে বাড়বে।
৭. আপনার মনোযোগ বাড়বে। কারণ এটি চর্চা করার সময় আপনি সচেতনভাবে দম নেওয়া ও ছাড়ার সময় আপনার মনোযোগ কেন্দ্রিভূত করছেন।
৮. আপনি দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকবেন।
৯. আপনি প্রাকৃতিভাবে সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকবেন।
সহযোগিতায়: উত্তরা ইয়োগা সোসাইটি
– আমাদের চারপাশের বিশ্ব ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে,
আমাদেরও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে চলতে হবে। আমাদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা ব্যাখ্যা করেছেন যে ভবিষ্যতে যোগ শিল্প কীভাবে আমাদের মূল প্রশিক্ষণ ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে আরও সমন্বিত ও সামগ্রিক উপকারিতা প্রদান করতে পারে। এটি একটি আরও সহনশীল সমাজ গড়ে তোলার প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আমাদের উদ্দেশ্য সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য, যোগ ব্যবস্থাপনার সব ধাপেই আমাদের উপস্থিত থাকতে হবে—প্রতিরোধ থেকে শুরু করে দুর্যোগ-পরবর্তী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, পুনরুদ্ধার এবং প্রশমন পর্যন্ত। স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে আমরা যা কিছু করতে পারি তা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে এবং নবীন সমাধান অনুসন্ধানে নিরলস থাকার মাধ্যমে আমরা আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলতে থাকব, যাতে সমাজের বুননে সহনশীলতা আরও দৃঢ়ভাবে স্থাপিত হয়।
আমাদের প্রচেষ্টা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত ও বিকশিত হতে থাকবে, তবে একটি বিষয় কখনোই পরিবর্তিত হবে না—আমাদের লক্ষ্য। একটি আরও সহনশীল এবং টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে অবদান রেখে আমরা আমাদের মূল্যবান সদস্যদের এবং সমাজের পাশে থাকব, তাদের প্রয়োজনের মুহূর্তে।
– উত্তরা ইয়োগা সোসাইটির আয়োজনে কক্সবাজার ভ্রমণ
বেশ কিছুদিন থেকেই মনের মধ্যে একটা চাপা উত্তেজনা অনুভব হচ্ছিল। বিষয়টা জানলে হাস্যকর মনে হতে পারে। দুই দিনের আনন্দ ভ্রমণে কক্সবাজার যাব! যে মানুষ এ যাবৎ অসংখ্যবার কক্সবাজার গিয়েছে সেই স্কুল জীবন থেকে, তার কেন এই উত্তেজনা? প্রোগ্রামটা হলো উত্তরা ইয়োগা সোসাইটির ব্যানারে প্রায় পৌণ একশত জন সক্রিয় ইয়োগা সদস্যদের নিয়ে দুই দিনের আয়োজন । যার মধ্যে থাকবে বেশ কিছু এক্সাইটিং ইভেন্টস। ভোর সাড়ে পাঁচটায় সৈকতের ভেজা বালুকাবেলায় সিনথেটিক ম্যাট বিছিয়ে সারি সারি ইয়োগা সদস্যের একসাথে ইয়োগা করা এবং জাতীয় পতাকা নিয়ে অসাধারণ এক রেলীর আয়োজন। সাথে থাকছে আরো এক্সাইটিং দিনব্যাপী হাউসবোট এম বি স্বপ্নতরী জাহাজে চড়ে রিভার ক্রুইজ!! আরো কত কি!!
তো দেখতে দেখতে মাহেন্দ্রক্ষণ এসে গেল, ১২ ই আগস্ট ২০২৫। ভোর ছয়টায় আমরা সর্বমোট ৭২ জন বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে তল্পিতল্পা সহ হাজির হয়ে গেলাম। উদ্যোক্তা, ভলান্টিয়ারদের ছুটাছুটি ছিল দেখার মত। ব্রেকফাস্ট বক্স,পানির কেইজ, সাউন্ড সিস্টেম, ব্যানার ইত্যাদি ঠিক মত পৌঁছালো কিনা। যথাসময়ে চট্টগ্রাম হয়ে সরাসরি কক্সবাজারগামী ট্রেন পর্যটন এক্সপ্রেস আমাদের নিয়ে রওয়ানা হয়ে গেল। রিজার্ভ বগীতে সবাই আসন নেওয়ার পর ব্রেকফাস্ট সেরেই শুরু হল হৈ হৈ রৈ রৈ। এভারেজ বয়স পঞ্চাশের উর্ধ্বে। দেখে মনে হচ্ছিল একেকজন পঁচিশ তিরিশ বছরের প্রাণবন্ত টগবগে তরুণ। গানে, নাচে সে দৃশ্য দেখার মত।
বিকেলে পৌঁছেই সবাই ছুটলেন সানসেট দেখার জন্য। ডিনারের পর রাত দশটায় সৈকতে বসল আড্ডা আর গানর আসর। কোন ফাঁকে রাত গভীর হয়ে গেল কেউ টেরই পেলনা, ক্লান্তি এলো না।
প্রোগ্রাম মত ফজরের নামাজ পড়েই সবাই ছুটলাম সমুদ্র সৈকতে। সফেদ ঢেউ আর ফিনফিনে বাতাস মনোমুগ্ধকর এক পরিবেশ,না দেখলে বুঝা দায় কত যে সৌন্দর্য, কত যে মধুময় সেই পরিবেশ। এরই মাঝে সারি সারি সিনথেটিক ম্যাট বিছানো হয়ে গেছে সমুদ্রের কোল ঘেঁষে।নরম ভেজা শীতল বালির উপরে। আমরা নির্দিষ্ট ইয়োগা পোষাকে যার যার ম্যাটে দাঁড়িয়ে গেলাম। সাউন্ড সিস্টেম এ যাবতীয় দিক নির্দেশনা দিয়ে চললেন, আমাদের অন্যতম অরগানাইজার টগবগে তরুণ, বুদ্ধিদীপ্ত, নিবেদিত প্রাণ প্রিয় ভাই নাসির উদ্দিন তন্ময়। সাথে আরেকজন শক্তিশালী অর্গানাইজার প্রফেসর খুরশেদ ভাই। সাথে অন্যতম প্রধান ইন্সট্রাকটর, যাকে আমরা ডাক্তারও বলি, আমজাদ ভাই। ওনার সাথে থাকলেন ইয়োগা সোসাইটির সভাপতি মাসুদ ভাই এবং আরেকজন তরুণ ইন্সট্রাক্টর আজহার ভাই। সে এক অভূতপূর্ব নয়ন জুরনো দৃশ্য। একদিকে চলমান ইয়োগা, অন্যদিকে সমুদ্রের ফেনিল আছড়ে পরা ঢেউ ও তার গর্জন। কি যে মোহময়!
ইয়োগা শেষে ছিল আরেক চমক। দেশমাতৃকার প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসার, শ্রদ্ধার নিরেট প্রকাশ। বিশাল এক জাতীয় পতাকা ঘিরে সবাই দাঁড়িয়ে থাকা এবং খুব প্রিয় একটি দেশাত্মবোধক গান কোরাসে গেয়ে উঠা, ” সূর্যোদয়ে তুমি, সূর্যাস্তেও তুমি, ও আমার বাংলাদেশ, প্রিয় জন্মভূমি… “।
পরের পর্বও কম উপভোগ্য নয়। সবাই এক ছুটে সমুদ্রের লোনা জলে ঝাপিয়ে পড়া। ঢেউয়ের সাথে সাথে জলকেলী, কি উপভোগ্য!
নির্দিষ্ট সময়ে সবাই ছুটলাম রিভার ক্রুইজ উপভোগ করার জন্য,হাউসবোট এম বি স্বপ্নতরীর দিকে। সিডিউল মোতাবেক সকাল দশটায় যাত্রা শুরু হল, ওয়েলকাম ড্রিংসের মাধ্যমে। সমুদ্র ও মহেশখালী চ্যানেল ধরে ঝিরিঝিরি গতিতে হাউস বোট এগিয়ে চলল। দুধারের প্রাকৃতিক দৃশ্য কী যে সুন্দর। পূবধার ঘেষে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে দৃশ্যমান উন্নত প্রযুক্তির বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনের পোস্টগুলো। কী চমৎকার দৃশ্য, বাতাসের সাথে সাথে বিশাল আকারের পাখাগুলো ঘুরেই চলেছে! উন্নত বিশ্বে এরকম দৃশ্য দেখা যায়! বলা ছিল রিভারক্রুইজের সময় সকাল দশটায় শুরু হয়ে পাঁচটয় শেষ হবে। শুরু হলো ছবি তোলার ধুম। কিছু পরেই আমাদের মূখ্য অরগানাইজার নাসির উদ্দিন তন্ময় ও অধ্যাপক খোরশেদ ভাই বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিলেন এবং একে একে ডেকে নিলেন সৌখিন গায়কদের। উত্তরা ইয়োগা সোসাইটির সদস্যদের বহুমুখী প্রতিভার বিচ্ছুরণ দেখলাম আমরা।
দুপুর দেড়টায় যাত্রা বিরতি হল মহেশখালী ঘাটের অদূরে। ট্রলার যোগে সবাই নেমে পড়লেন মহেশখালী, আদীনাথ মন্দির, মহেশখালীর বিখ্যাত মিষ্টি পানের বরজ দেখতে।
সুস্বাদু মধ্যান্ন ভোজ পরিবেশন করা হল বিকেল তিনটার দিকে। আকর্ষণীয় রেফেল ড্র, কুইজ কম্পিটিশন, পুরষ্কার বিতরনী, সমাপনী বক্তব্য ইত্যাদির মাধ্যমে দেখতে দেখতে রিভারক্রুইজ সমাপ্ত হল। অতঃপর রাতের ট্রেন ধরে ঢাকার পথে যাত্রা শুরু।
এই অনন্য অসাধারণ এবং শতভাগ সফল আয়োজন একমাত্র উত্তরা ইয়োগা সোসাইটির মত অত্যন্ত ডিসিপ্লিন, সুশীল ও অত্যন্ত উঁচু মানের মন ও মননধারী কিছু মানুষের পক্ষেই সম্ভব।
আমাদের মনের মনিকোঠায় কক্সবাজার সফরের এই দুই দিনের নিঃসন্দেহে কিছু বিরল মূহুর্ত, ঘটনাপ্রবাহ আমাদের স্মৃতির ভান্ডারকে চিরদিন ঋদ্ধ করেই রাখবে।
ধন্যবাদ উত্তরা ইয়োগা সোসাইটি, ধন্যবাদ দি বেষ্ট অর্গানাইজার নাসির উদ্দীন তন্ময়, আমজাদ ভাই, মাসুম ভাই, খোরশেদ ভাই, আজহার ভাই সহ সকল ইয়োগা সদস্যবৃন্দ।
আমি মনে করি, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে উত্তরা ইয়োগা সোসাইটির এই ইয়োগা ইভেন্টটি একটি ইতিহাস হয়ে থাকবে। আর ইতিহাসের একজন অংশিদার হিসেবে নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করছি।
পরিশেষে বলব –
” সুস্থ দেহ প্রশান্ত মন
কর্ম ব্যাস্ত সুখী জীবন। “
